আমাদের প্রিয় স্কুল
বিএল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
ইব্রাহীম বিন কামাল—তৃতীয় শ্রেণি, সদস্য নম্বর :১২৬৬
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৩৬
অবিভক্ত বাংলায় নদীভাঙনকবলিত পিছিয়ে পড়া জনপদ সিরাজগঞ্জকে আলোকিত করার প্রত্যয় নিয়ে তাড়াশের তত্কালীন জমিদার দানবীর বনওয়ারী লাল শহরের পূর্বপ্রান্তে বিচিত্র নদী প্রমত্তা যমুনার কোল ঘেঁষে প্রথম শ্রেণির যে বিদ্যানিকেতনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তারই বর্তমান নাম বিএল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। বর্তমান অবস্থান যমুনার বক্ষে হলেও ১৮৬৯ সালে বিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে দুই কিলোমিটার দূরে যমুনা নদী প্রবাহিত ছিল। নদী ভাঙনের কবলে কোর্ট-কাছারি, এসডিও ও এসডিপিও’র বাংলো এবং জেলখানা যমুনার গর্ভে বিলীন হলেও কালের সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকে বিএল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এ বিদ্যালয়ের নাম ছিল সিরাজগঞ্জ এইচই স্কুল। ১ জুলাই ১৮৬৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা পর্ষদ প্রথম এটিকে স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯১৪ সালে বাবু বনমালী রায় নতুন ভবন স্থাপনের পর পিতার নামানুসারে বিদ্যালয়টির নামকরণ করেন বনওয়ারী লাল (বিএল) উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছাত্ররা প্রথম প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনমুক্ত হওয়ার পরই তত্কালীন জাতীয় সরকারের নির্দেশক্রমে মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের নাম হতে ইংরেজি কথাটা তুলে দেয়া হয়। তখন বিদ্যালয়ের নাম হয় বিএল উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৯ সালের ১ মে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। জমিদার বনওয়ারী লাল রায় বাহাদুর নির্মিত ভবনটি ১৯৯৫-৯৬ সালে নিলামের মাধ্যমে বিক্রির পর বর্তমানে পাকা-আধাপাকা মিলিয়ে মোট ভবনের সংখ্যা ৭। এর মধ্যে একটি তিনতলা ভবন, দুটি দ্বিতল, দুটি একতলা এবং ৩টি টিনশেড ভবন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পিপাসা পূরণের লক্ষ্যে আমাদের বিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। এছাড়াও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা এবং কম্পিউটারের জন্য পৃথক পৃথক বিজ্ঞানাগার। এসব বিজ্ঞানাগারে রয়েছে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি ও উপকরণ। বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩৫০ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ৪৯ জন। এছাড়া দু’শিফটের একাডেমিক বিষয় দেখাশোনার জন্য আছেন দু’জন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন একজন প্রধান শিক্ষক। আমাদের বিদ্যালয়ে রয়েছে স্বয়ংসম্পূর্ণ স্কাউট, রেডক্রিসেন্ট ও বিএনসিসি দল। সেবামূলক আদর্শে অনুপ্রাণিত এসব দলের সদস্যরা নানা ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে। তারা বিভিন্ন জাম্বুরিতে যোগদান করে সন্তোষজনক ফলাফল প্রদর্শন করে। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসের সমাবেশেও তারা অংশগ্রহণ করে।
সৃষ্টিলগ্ন থেকেই দেশ ও দশের সুযোগ্য সন্তান সৃষ্টি করে বিদ্যালয়টি সফলতার প্রাসাদ গড়েছে। পাটিগণিত সম্রাট যাদব চক্রবর্তী তত্কালীন বিএল ইংলিশ স্কুল হতে এন্ট্রান্স পাস করেন। সাহিত্যিক ইসমাইল হোসেন সিরাজী, বিজ্ঞানী ড. আব্দুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, প্রাক্তন মন্ত্রী ডা. এম এ মতিন এই বিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্রদের অন্যতম। সরকারিকরণের বছরেই এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ফলাফল সম্মান বয়ে আনে। মোট ৪৫ জন ছাত্রের ৪২ জনই উত্তীর্ণ হয়, যার ৫ জন ১ম বিভাগে, ২৮ জন ২য় বিভাগে এবং ৯ জন ৩য় বিভাগে পাস করেন। এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অদ্যাবধি প্রতি বছর জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে থাকে বিদ্যালয়টি।