পদ্মা যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনপদ
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৩
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে ইসলামপুর, আবেদের ঘাট, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীর চর এলাকায় এক হাজার ঘরবাড়ি এবং দেড় হাজার হেক্টর আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে হুমকির মুখে পড়বে সদ্য নির্মিত ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনও। টানা বর্ষণ ও ফারাক্কা বাঁধের সবকটি গেট খুলে দেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবাইদুর রহমান জানান, পদ্মার বর্তমান অবস্থা খুবই বিপজ্জনক। আমরা প্রাথমিকভাবে সেখানে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন রোধের কাজ শুরু করব।
জামালপুরের ইসলামপুরে তীব্র ভাঙন
আমাদের জামালপুর প্রতিনিধি জানায়, জামালপুরে ইসলামপুর উপজেলায় যমুনার তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। নদী পাড়ের মানুষ তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ারও সময় পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে উপজেলার কুলকান্দির পরীক্ষামূলক ‘রিভেটমেন্ট স্ট্রাকচার’ (প্রতিরোধ বাঁধ) এর বড় একটি অংশসহ উপজেলার সাত গ্রামের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়িসহ চিনাডুলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কাগজে-কলমে যমুনার ভাঙন রোধে ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদী নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ গ্রহণ করা হলেও গত পাঁচ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার পার্থশী ইউনিয়নের শশাড়িয়া বাড়ি, বেলগাছা ইউনিয়নের বেলগাছা মধ্যেপাড়া, মিয়াপড়া, গুঠাইল-কুলকান্দী সড়ক কাম বাঁধ, চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম বামনা, মধ্যে বামনা, কদমতলী ও শিংভাঙ্গা গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ১০০ মেট্রিক টন চালের বিনিময়ে নির্মিত বেলগাছা ক্রস বাধঁটিও নদীতে বিলীন হয়েছে।
জানা গেছে, জেলার অসংখ্য স্থাপনা রক্ষার জন্য ৯০ এর দশকে ফ্রান্স ও জার্মানী সরকারের অর্থায়নে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুলকান্দি ‘রিভেটমেন্ট স্ট্রাকচার’টি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটির দুই-তৃতীয়াংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া কুলকান্দি হার্ড পয়েন্টের ভাটিতে নদীর গতিপথ পরির্বতন হয়ে বেলগাছা ইউনিয়নের মূল ভূখন্ডে আঘাত হানতে শুরু করেছে রাক্ষুসী যমুনা। এতে ইসলামপুর উপজেলার মানচিত্র হুমকির মুখে রয়েছে।
বাজিতপুরে ভাঙ্গন
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানায়, বগুড়ার এককালের শিক্ষা- সংস্কৃতি ও ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র চন্দনবাইশা এখন যমুনার করাল গ্রাসে বিলীন এক বিধ্বস্ত জনপদ। ১৯৯৫ সালে চন্দনবাইশা প্রথম যমুনায় ভেঙ্গে গেলে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে ওই ইউনিয়নের শেষ মৌজা ঘুঘুমারিতে বাজার, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করা হয়। গত বছর আগষ্ট মাসে বাঁধ ভেঙ্গে বাজারের পার্শ্ববর্তী তালুকদারপাড়া গ্রাম যমুনার গর্ভে বিলীন হয়। ওই সময় থেকে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় চলতি বছর জুলাই মাসের মধ্যে স্কুল-কলেজ, বাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যমুনায় বিলীন হলে চন্দনবাইশার শেষ চিহ্ন মুছে যায়।
এদিকে আমাদের বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গত সাত দিনে বাজিতপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী দুইটি ইউনিয়নের সাতটি গ্রামের কমপক্ষে শতাধিক ঘরবাড়ী নদী গর্ভে চলে গেছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ঘোড়াউত্রা নদীর তীরবর্তী এসব গ্রামের ৩৫টি পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।