রাবিতে আবার আধিপত্য বিস্তারে তত্পর শিবির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পূর্ণশক্তি নিয়ে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে ছাত্রশিবির। এ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে যারা পরিচিত মুখ নয় তাদের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি আবাসিক রেখে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে শিবির। এছাড়াও পরিচিত মুখে যারা আছে তাদের নিয়মিত ক্যাম্পাসে দলবেঁধে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে মৌলবাদী সংগঠন ছাত্রশিবিরকে প্রতিহত ও ক্যাম্পাসে বর্তমান আধিপত্য ধরে রাখতে আরো সক্রিয় হতে শুরু করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শিবির-ছাত্রলীগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক নিহতের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের চিরুনি অভিযানে ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিতে হয় মৌলবাদী এ সংগঠনটিকে। এরপর দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোন তত্পরতা চোখে পড়েনি। বিএনপি সমর্থিত ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরই ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ব্যাপক তত্পরতা চালায় ছাত্রশিবির। ক্যাম্পাস দখলের জন্য ব্যাপক চেষ্টা করেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। কিন্তু একদিকে ছাত্রলীগকে বাঁচাতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অন্যদিকে ছাত্রলীগের সশস্ত্র অবস্থানের মুখে ভেস্তে যায় তাদের পরিকল্পনা। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে শিবিরের তত্পরতা আর তেমন চোখে পড়েনি। তবে থেমে নেই তাদের কার্যক্রম। ঈদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাস দখলের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় শিবির আবার সংগঠিত হচ্ছে, অপরদিকে শিবিরকে ঠেকাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র অবস্থানে প্রস্তুত রয়েছেন বলে একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে। এমনকি ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সবসময় অস্ত্রসহ ঘোরাফেরা করছে বলেও জানা গেছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসন বুলবুল জয়ী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন গভীর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আনন্দ-উল্লাস করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এরপর থেকে শুরু হয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে তাদের তত্পরতা। শিবিরের তত্পরতা ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। শিবির ঠেকাতে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয় অসংখ্য পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ। অপরদিকে ছাত্রলীগের সশস্ত্র কঠোর অবস্থানের মুখে ক্যাম্পাসে বেশিদিন তত্পরতা চালাতে পারেনি ইসলামী ছাত্র সংগঠনটি। এরপর কয়েক দিনের ব্যবধানে রাবি শাখা শিবিরের তিনজন নেতাকে ঢাকা থেকে পুলিশ আটক করে গুম করেছে বলে দাবি করা হয় শিবিরের পক্ষ থেকে। কিন্তু রাজশাহীর প্রশাসনিক কর্মকর্তরা জানান, এমন কোন খবর তাদের কাছে নেই। শিবিরের দাবি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ নেতৃস্থানীয় তিন নেতা গুম হওয়ার পর শিবির সাংগঠনিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তাদের ক্যাম্পাস দখলের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কিন্তু সরকারের শেষ সময় এসে ক্যাম্পাস দখলের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় শিবির ফের সংগঠিত হচ্ছে বলে একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে। গোয়েন্দা ও শিবিরের গোপন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচুণ্ডি, বিনোদপুর, কাজলা, ধরমপুর, মির্জাপুর, ভদ্রা, বুদপাড়াসহ অন্যান্য এলাকার বিভিন্ন মেসে শক্ত অবস্থানে সক্রিয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির। নিয়মিত চলছে তাদের গোপন বৈঠক। সেসব বৈঠক থেকে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ক্যাম্পাসের আশপাশে ও আবাসিক হলে নেতাকর্মীদের অবস্থানকে শক্ত করতে তাগিদ দেয়া হচ্ছে ওই গোপন বৈঠক থেকে। যে কোন মুহূর্তে নেতাকর্মীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার জন্য প্রস্তুত থাকার জন্যও বলা হচ্ছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা হয়েছে। ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দেয়ার পূর্বে নেতাকর্মীরা অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও কমিটি দেয়ার পর তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে প্রতিহত করতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুল আলম ইমন বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।’ এছাড়াও তিনি ক্যাম্পাসে জ্ঞানচর্চার জন্য পূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল হাসান তুহিন বলেন, ‘মৌলবাদী ছাত্র সংগঠন শিবিরকে ক্যাম্পাসে ঠাঁই দেয়া হবে না। তাদের ক্যাম্পাসে কোন তত্পরতা চালাতে দেয়া হবে না। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করবে।’ এজন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন বলে দাবি করে তিনি।