এত পিঁয়াজ গেল কোথায়
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৬
দেশে পিঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২০ লাখ টন। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশে ১৯ লাখ ১৪ হাজার টন পিঁয়াজ উত্পাদিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ টন পিঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সেই হিসেবে উদ্বৃত্ত পিঁয়াজের পরিমাণ ৪ লাখ টনের বেশি। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, তাহলে দেশে পিঁয়াজের সংকট হবে কেন? এত পিঁয়াজ গেল কোথায়?
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভারতের পিঁয়াজ সংকটকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা লাভের আশায় পিঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন। এছাড়া পিঁয়াজের দাম বাড়ার যৌক্তিক কোন কারণ নেই। সূত্রের ভাষ্যমতে, দেশে যে পরিমাণ পিঁয়াজ মজুদ আছে তা দিয়ে আগামী তিন মাস চলবে। এই সময়ের মধ্যে দেশে চাষ করা নতুন পিঁয়াজ বাজারে চলে আসবে।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে প্রতি বছরই পিঁয়াজের উত্পাদন বাড়ছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে পিঁয়াজ উত্পাদন হয় ৮ লাখ ৪৯ হাজার টন। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১৪ লাখ ২৩ হাজার টন, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টন, ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৮ লাখ ৯৯ হাজার টন ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে উত্পাদন হয় ১৯ লাখ ১৪ হাজার টন। এভাবে প্রতি বছরই দেশে পিঁয়াজের উত্পাদন বাড়ছে।
বাংলাদেশ মশলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদুল হক ঝন্টু গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, কৃষকদের মানসম্মত বীজের যোগান ও যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে পারলে পিঁয়াজের উত্পাদন আরো বাড়বে। এ জন্য বিএআরআই, বিএডিসি ও ডিএই-এর মাধ্যমে উত্পাদন বৃদ্ধির সমন্বিত কর্মসূচি নিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যদি সরকারের প্রতিষ্ঠানের দেয়া পিঁয়াজ উত্পাদনের এই তথ্য সঠিক হয়, তাহলে দেশে পিঁয়াজের কোন ঘাটতি নেই। চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ পিঁয়াজ দেশে রয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা করছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর হাতে প্রচুর পরিমাণে পিঁয়াজ মজুদ রয়েছে। বেশি লাভের আশায় তারা পিঁয়াজ মজুদ করে রাখছে। এসব মজুদদারদের খুঁজে বের করতে মাঠে নেমেছে সরকারের একাধিক সংস্থা। এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।
এদিকে সরবরাহ সংকটে প্রতিদিনই লাগামহীনভাবে বাড়ছে পিঁয়াজের দাম। পিঁয়াজের এই ‘ঝাঁজে’ রীতিমতো নাকাল ক্রেতারা। সরকারও উদ্বিগ্ন। গতকাল মঙ্গলবারও রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজ ৮৮ থেকে ৯০ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৭৮ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ইতিমধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণে ৫ হাজার টন পিঁয়াজ আমদানির ঘোষণা দিয়েছে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আমদানি করা এই পিঁয়াজ আগামী সপ্তাহ থেকে খোলাবাজারে স্বল্প মূল্যে ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করবে টিসিবি।