ডিসিরা সীমিত বিচারিক ক্ষমতা পাচ্ছেন!
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৯
সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ সময়ে এসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সীমিত বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে। এজন্য মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ সংশোধন করা হচ্ছে। আর এ কাজটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে আধা-আনুষ্ঠানিক পত্র দেয়া হয়েছে।
২০০৯ সালে প্রথম ডিসিদের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সে সময় অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে বলা হয়, মোবাইল কোর্ট আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অপরাধ আমলে নেয়া ও সংক্ষিপ্ত বিচারিক ক্ষমতা দেয়া না হলে মাঠ পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ছে। সমপ্রতি শেষ হওয়া ডিসি সম্মেলনেও এ দাবি করা হয়। ডিসিরা বলেছেন, অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে অনেকে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানোর প্রক্রিয়ায় যারা জড়িত এবং এসব পণ্য যারা বিক্রি করছেন তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকছেন। কারণ মোবাইল কোর্ট আইনের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী দোষ স্বীকার না করলে কাউকে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা নেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের। সেজন্য আইনটির সংশোধন করে দোষ স্বীকার না করলেও উপস্থিত অন্তত দুইজন সাক্ষীর সাক্ষ্যমতে শাস্তির বিধান করার কথা বলা হয়েছে।
গত জুলাই মাসে শেষ হওয়া সম্মেলনে ডিসিদের পক্ষ থেকে এরকম দাবি করা হলেও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সে সময় বলেছিলেন, বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার পর এখন আর নির্বাহী কর্তৃত্বে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার সুযোগ নেই।
মোবাইল কোর্ট আইনের ৬ ধারায় বলা আছে, কোন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে অপরাধ সংঘটিত বা তাদের কর্তৃক কোন অপরাধ উদঘাটিত হলে সেই অপরাধ আমলে নিয়ে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে আইনে নির্ধারিত শাস্তি দেয়া যাবে। এখন ৬(ক) ধারা সংযোজন করে বলা হচ্ছে, অপরাধী দোষ স্বীকার না করলেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুইজন সাক্ষীর জবানবন্দির ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া যাবে। ২০১০ সালের ২৫ জুলাই ডিসি সম্মেলনে মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধন এবং আইনের অধীনে একটি বিধিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন বা বাতিল করা হয়নি। সমপ্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেইন ভূঞা স্বরাষ্ট্র সচিবকে ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধনের তাগিদ দিয়ে চিঠি দেন। গতকাল মঙ্গলবার এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম শহীদ খান স্বরাষ্ট্র সচিবকে অনুরূপ পত্রে ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন।
এসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। কারণ তারা দোষীকে হাতেনাতে ধরেও শাস্তি দিতে পারেন না। এ অবস্থায় মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধন ও আইনের অধীনে একটি বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি বলে মন্তব্য করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মোবাইল কোর্ট আইনের সংশোধনীর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এ বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। শিগগির একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার পর সংশোধিত মোবাইল কোর্ট আইন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে কিংবা তার আগেই রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে এ ধরনের ক্ষমতা দেয়াকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত মাযদার হোসেন মামলায় উচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে জুডিশিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশন বিরোধিতা করে আসছে।