টিভিমুখ

হাসি-খুশি মেয়েটি

লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে নাম লেখান সামিয়া। অনেকটা শখের বশেই রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন শত শত প্রতিযোগীকে ছাড়িয়ে যেতে থাকলেন, তখন নিজের প্রতি তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল। তাই সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছুতে পরিশ্রম করতে থাকলেন। সেই পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফসল হিসেবে ২০১২ সালে ওই প্রতিযোগিতায় সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন এই তরুণী। তার ভাষ্যে, ‘লাক্সের অভিজ্ঞতা আসলে বুঝিয়ে বলতে পারব না। আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা হলো লাক্স। ওখানে গিয়েই আমি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করি। বিশেষ করে গ্রুমিং সেশনটা ছিল অনেক শেখার। আমার মনে হয়, লাক্স থেকে বের হয়ে কেউ এই অভিজ্ঞতা ভুলতে পারবে না। সত্যি বলতে কি, লাক্সের প্ল্যাটফর্মের জন্য আমাকে মিডিয়ার কাজ করতে সেভাবে স্ট্রাগল করতে হচ্ছে না।’ নিজের দিন বদলের গল্প প্রসঙ্গে সামিয়া বলেন, ‘আমারও পরিচিতির বিস্তৃৃতি ঘটেছে। লাক্সে আসার আগে আমি ভাবতাম আমাকে যদি সবাই চিনত তাহলে খুব ভালো লাগত। এখন তাই হয়েছে। যেখানে যাই সেখানেই আমাকে দেখে অনেকে বলছেন, ‘তুমি লাক্সের সামিয়া না!’ কেউ কেউ অটোগ্রাফ নিচ্ছে। নিজে থেকে এসে আমার সঙ্গে ভক্তরা যখন কথা বলে, তখন আমার খুবই আনন্দ লাগে। আগে দেখা যেত বারো মাসেও কোনো কোনো আত্মীয়স্বজনরা একবার ফোন করতেন না। এখন একটু ঘনঘন ফোন করেন। বাসা আত্মীয়স্বজনে ভরা থাকে। আমি এখনকার মুহূর্তগুলোকে দারুণ এনজয় করছি। এমনও হয়েছে যে, বিশ-ত্রিশ বছর ধরে অনেক আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল না। এখন তারাও আমার আম্মুকে ফোন করে বলেন, কনগ্র্যাচুলেশন্স! তোমার মেয়ে সুপারস্টার হয়েছে। এটা আমাদের জন্য গর্ব।’ তারকাখ্যাতি সামিয়াকে যে শুধু আনন্দই দিচ্ছে তা নয়। মাঝে মাঝে নানা ভোগান্তিতেও ফেলছেন তাদের। আর সেই গল্প নিয়ে সামিয়া বলেন, ‘এখন বন্ধুদের কাছ থেকে আমাকে নানা রকম কথা শুনতে হয়। আমি সুপারস্টার হওয়ার পর স্বাভাবিক বিষয়গুলোকেও এখন ওরা একটু অস্বাভাবিকভাবে দেখে। যেমন কোনো বন্ধু আমাকে যদি ফোন করে তাত্ক্ষণিকভাবে না পায়, তাহলে বিরক্ত হয়। পরে যখন আমি কলব্যাক করি, তখন ওরা বলে, আচ্ছা, তুমি তো এখন স্টার। আমাদেরকে ফোন করা বা আমাদের ফোন রিসিভ করার সময় কী এখন তোমার আছে। আসলে ওরা বুঝতে চায় না আমি যে আগের মতোই আছি। ওরা যখন ফোন করে সেসময় আমি হয়তো ঘুমাচ্ছি কিংবা শুটিংয়ে শট দিচ্ছি।’ বর্তমানে একাধিক ধারাবাহিক, টেলিছবি, খণ্ড নাটক নিয়ে ব্যস্ত লাক্সতারকা সামিয়া। ‘দশ মিলিয়ন ডলার’ শিরোনামের ধারাবাহিকে তাকে তানিয়া আহমেদের ছোট বোনের ভূমিকায় দেখা যাবে। এ ছাড়া ‘অ্যাডাল্ট হুড’ ধারাবাহিকে তিনি জেনেট নামের একজন খ্রিস্টান তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। তাকে একজন ডিভোর্সি মায়ের মেয়ের ভূমিকায় দেখা যাবে। সমাজে একজন ডিভোর্সি মা ও তার মেয়ের সংগ্রামী জীবনের নানা ঘটনা নিয়েই ধারাবাহিকটির কাহিনী এগিয়ে যাবে। সম্প্রতি তিনি ‘ডিবি’ শিরোনামের একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। এরইমধ্যে শেষ করলেন কয়েকটি নাটকের শুটিং। এগুলো হচ্ছে শহীদুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় ‘কেউ কেউ মৃত জোনাকি’, জাবির রাসেলের ‘নিউটনের তৃতীয় সূত্র এবং মলম পার্টি’ ইত্যাদি। বর্তমানে তিনি নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ব্যক্তিগত জীবনে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন সামিয়া। এরই মধ্যে তিনি প্রায় ডজন খানের বেশি দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করে ফেলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা জাহাজে কর্মরত রয়েছেন। সেই সুবাদে পৃথিবীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি পৃথিবীর অনেক মনোরম স্থান ঘুরে বেড়িয়েছি।’ সামিয়া আন্তর্জাতিকমানের মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তা ছাড়া তার চলচ্চিত্রেও অভিনয়ের ইচ্ছা আছে। তবে তিনি মূলধারার চলচ্চিত্রের চেয়ে বিকল্পধারার চলচ্চিত্রকেই বেশি প্রাধান্য দিবেন।