হলিউড
নতুন মিশন : ইলিসিয়াম
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৪৬
পৃথিবী বাঁচানোর যুদ্ধে নেমেছেন হলিউডের অনেক তারকারাই। টম ক্রুজ, উইল স্মিথের স্রোতে গা ভাসালেন ‘বর্ন’ খ্যাত ম্যাট ডেমন। সম্প্রতি ‘ইলিসিয়াম’ সিনেমাটিতে একটি মিশন নিয়ে পৃথিবীতে আসছেন তিনি। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
২১৫৪ সাল, কোনো মানুষেরই আর কোনো কিছুর অভাব নেই। সবাই স্বয়ংসম্পূর্ণ, চাহিদা শব্দটি যেন ভুলেই গেছে সবাই। নিজের মতো করে সুখে বাস করছেন সবাই। কেউ কারও জন্য অপেক্ষা করে নেই। সবাই ছুটছে নিজের কাজে। সুন্দর সমাজব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে সবার জন্য। আর এই সব গড়ে উঠেছে একটি স্পেস স্টেশনে, পৃথিবীতে নয়। স্পেস স্টেশন মানুষ বানিয়ে নিয়েছে বসতির জন্য। পৃথিবীর আবহাওয়া আর বাঁচার মতো নেই। সেখানে টক্সিসিটির পরিমাণ বেড়ে গেছে, অর্থাত্, গ্যাসে ভরে গেছে পরিবেশ। সেখানে আর আগের মতো ফুল ফোটে না। নেই কোনো সুন্দর জলাভূমি কিংবা সুন্দর কোনো পরিবেশ। এই অবস্থায় তারা নিজের মতো গড়ে তুলেছে কমিউনিটি, বহু বছর ধরে পৃথিবী থেকে দূরে। একসময় স্পেস স্টেশন থেকে পৃথিবীর সাথে আবার নতুন করে সম্পর্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সব নিরীক্ষা করে দেখে আসার জন্য পাঠানো হয় এক স্পেস পারসন। ম্যাট ডেমন সেই স্পেস পারসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। একটি মিশন নিয়ে চির চেনা পৃথিবীতে পাঠানো হয় তাকে। এরপর কী হয় সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ‘ইলিসিয়াম’ নামের সিনেমাটির জন্য।
সিনেমাটিতে ম্যাটের পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন বিখ্যাত অভিনেত্রী জোডি ফস্টার।
এবারে জেনে নেওয়া যাক ম্যাট ডেমনের সম্পর্কে কিছু কথা।
ম্যাথিউ পেইজ ডেমন একজন মার্কিন অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার। ‘গুড উইল হান্টিং’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সেরা মূল চিত্রনাট্য বিভাগে একাডেমি পুরস্কার জেতেন এবং একই ছবিতে মূল চরিত্রাভিনেতা হিসেবে অস্কারের মনোনয়নও পেয়েছিলেন। ১৯৯৭ সাল থেকেই মূলত তার জনপ্রিয়তার শুরু এবং সেই সাথে হলিউডের সেরা অভিনেতার কাতারে নিজেকে সামিল করতে সমর্থ হন। ব্যক্তিগত জীবনে তার সাথে রয়েছেন তার স্ত্রী লুসিয়ানা বোজান বারোসো, এক কন্যাসন্তান ও বোরোসোর আগের পক্ষের এক কন্যাসন্তান। তিনি সর্বকালের সফলতম ২৫ জন হলিউড অভিনেতার তালিকায় অন্যতম এবং চলচিত্রে তার দক্ষতার জন্য বেশকিছু পুরস্কার জিতেছেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ডেমন বেশকিছু দাতব্য সংস্থার সাথেও জড়িত, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ওয়ান ক্যাম্পেইন ও এইচ২ও আফ্রিকা ফাউন্ডেশন। অ্যাকশন চলচ্চিত্র ‘দ্য বর্ন আলটিমেটাম’-এ তিনি জেসন বর্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া ‘ইয়ুথ উইদাউট ইয়ুথ’ চলচ্চিত্রে তিনি অতিথি চরিত্রে রূপদান করেছেন।
ক্যারিয়ার ও পড়াশোনা
ডেমনের জন্ম হয়েছিল ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজে। তার পিতা কেন্ট টেলফার ডেমন ছিলেন শেয়ার ব্যবসায়ী এবং মা ন্যান্মি কার্লসন-পেইজ ছিলেন লেসলি ইউনিভার্সিটির প্রাথমিক শিশু শিক্ষা অধ্যাপক। ‘মেইল অন সানডে’-এর সাথে এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন তার দাদা ছিলেন তার পরচিতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে চমত্কার। তার ভাষায় তার দাদা ছিলেন একজন গর্বিত ফিনীয় এবং কখনও কারও সাহায্য নিতেন না। তিনি যখন আমেরিকায় আসেন তখন দেশটিতে বিশ্বযুদ্ধের পর বিষণ্নতা চলছিল এবং তিনি জুতা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। ডেমনের কাইল নামে একজন ভাই আছেন যিনি একজন ভাস্কর ও শিল্পী। জন্মের পর প্রথম দুই বছর ডেমন ও তার পরিবার ম্যাসাচুসেটসের নিউটনে বাস করেছেন। অভিনেতা বেন এফ্লেকসহ আরও অনেকেই তার প্রতিবেশী ছিলেন। মূলত তাদের আশপাশে থাকাটাই তাকে প্রেরণা দিয়েছিল আলোর জগতে আসার। আর সেই থেকে তিনি আজকের এক সফল তারকা।