ইতিহাস ঐতিহ্যের তীর্থভূমি ভাওয়াল রাজবাড়ী
মুজিবুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৮
গাজীপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ কালের সাক্ষী দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী। সাধারণ কোন রাজবাড়ী বলতে আমরা যা বুঝি এটি কিন্তু তা নয় । আসলে বিশাল এক রাজপ্রাসাদ এটি। আয়তন এবং কক্ষের হিসাবে এত বড় বিশাল রাজপ্রাসাদ বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। দ্বিতল এ রাজপ্রাসাদটিতে সর্বমোট কক্ষ রয়েছে ৩৬৫টি। প্রায় ৫ একর জায়গার উপর রাজপ্রাসাদটি নির্মিত হয়েছে। এটির আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে এর পশ্চিম পার্শ্বেই রয়েছে বিশাল একটি দীঘি এবং সামনে রয়েছে বিশাল সমতল একটি মাঠ। এতবড় মাঠও সমগ্র বাংলাদেশে আর নেই। রাজবাড়িটির পুরো এলাকাই সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।
এর মূল প্রবেশ দ্বার দিয়ে ঢুকে একেবারে পিছনে যেতে হলে হাঁটতে হবে অনেকটা পথ, পেরুতে হবে অনেক অলিন্দ আর বারান্দা। বিশাল এ রাজপ্রাসাদটির বিশালত্ব দেখে যে কেউ অভিভূত হবেন এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। অনেকেই রাজবাড়ীতে ঢুকে গোলক ধাঁধায় হারিয়ে যাবেন - এর অলিন্দ গলি উপগলি দিয়ে একবার হেঁটে গিয়ে পুনরায় সেগুলো খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়বে। রাজবাড়ীর প্রতিটি স্থানে প্রতিটি কক্ষে যেতে হলে দীর্ঘ সময় নিয়ে ঢুকতে হবে এতে।
প্রায় দেড়শ বছরের প্রাচীন এ রাজপ্রাসাদটি কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বা একেবারে ভগ্নপ্রায় এটা বলা ঠিক হবে না। এটি বর্তমানে ব্যবহূত হচ্ছে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হিসেবে সেই ১৯৮৪ সাল থেকে। পাশাপাশি এতে আছে আরো অনেক সরকারী অফিস, আদালত এবং ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। চাকরির সুবাদে এবং বিভিন্ন কার্য উপলক্ষে এ রাজবাড়ীতে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের আগমন ঘটে থাকে। পাশাপাশি আসেন অনেক দর্শনার্থী। অথচ এত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি রাজপ্রাসাদ সরকারি অফিস হিসেবে ব্যবহূত হওয়াটা কতটুকু সমীচীন সে প্রশ্ন আজ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে । এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরকারি নিয়ম রয়েছে যে কোন একটি ঐতিহাসিক ভবন বা নিদর্শন যদি একশ বছরের বেশি প্রাচীন হয়ে থাকে তবে সেটিকে পুরাতত্ত্ব নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করে তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সেটি গড়ে তুলতে হবে। অথচ ভাওয়াল রাজবাড়ীর ক্ষেত্রে এ বিধিটি সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
রাজবংশের লোকজন রাজবাড়ী পরিত্যাগ করে চলে যাবার পরও এটির প্রায় প্রতিটি কক্ষে মূল্যবান আসবাবপত্র ছিল। ছিল আরো অনেক মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী। অনুসন্ধান করে এসব প্রাচীন নিদর্শনসমূহ উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা দরকার।