জেলার শিল্প বিকাশের ধারা ও বাধা
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৪
গাজীপুর এক শিল্পসমৃদ্ধ জেলা। দেশের অন্যতম শিল্পনগরী হচ্ছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। জেলায় দ্রুত শিল্প বিকাশ ঘটছে। বৈদেশিক আয় থেকে শুরু করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে গাজীপুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আশা করা যায় এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে গাজীপুর দিন দিন আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। গাজীপুরে রয়েছে দুটি শিল্পনগরী। এ দুটিতে রয়েছে কয়েক হাজার শিল্প কল-কারখানা। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে পোশাক শিল্প। এছাড়া রয়েছে পোল্ট্রি, মত্স্য খামার ও শত শত ইটভাটা। এ সব শিল্প কারখানায় প্রায় ১০ লক্ষ শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে- যাদের অধিকাংশ নারী শ্রমিক। বলা যায় গত এক যুগে গাজীপুরে সত্যিকার অর্থে শিল্প বিপ্লব ঘটেছে। সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে তো বটেই- প্রায় সব কয়টি উপজেলাতেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোটবড় মিল-কারখানা। এসব এলাকায় রাস্তার দু পাশে খালি জমি চোখেই পড়ে না। কোন জমি এখন কিনতেও পারা যাচ্ছে না। সব জমিই বিক্রি হয়ে গেছে। এসব বিক্রীত জমিতে ইতোমধ্যে কল-কারখানা নির্মাণ হয়ে গেছে অথবা নির্মাণের অপেক্ষায় আছে। বলা যায় শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়া লেগেছে এসব এলাকার সর্বত্র। দিন দিন তাই গাজীপুরে আবাদী জমি কমে যাচ্ছে। উজাড় হচ্ছে বন-জঙ্গল। প্রকৃতির যে সুরম্য লীলা নিকেতন ছিল গাজীপুর শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে সে প্রকৃতি বিলীন হতে চলেছে।
গাজীপুরে শিল্প বিকাশের এ ধারা জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বলা যায় জাতীয় রাজস্ব খাতে বড় একটা অর্থের যোগান দেয় গাজীপুর। গাজীপুরে প্রধান শিল্পখাত হচ্ছে পোশাক শিল্প। তবে দেশের অন্যতম বৃহত্ ্এ শিল্প খাতে রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। এখানে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা নির্মাণ করা হয়েছে। অধিকাংশ পোশাক শিল্পে কাজের কোন সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। একই ভবনে রয়েছে একাধিক পোশাক কারখানা। নানা কারণে পোশাক শিল্প সেক্টরে শ্রমিক অসন্তোষ লেগেই আছে। এ শ্রমিক অসন্তোষ মাঝে মাঝে সহিংসতায় রূপ নেয়। এ ছাড়া শ্রমিকদের বাসস্থান সমস্যাও রয়েছে।
গাজীপুরকে এক সময় বলা হতো পোল্ট্রি জেলা। সে পোল্ট্রি শিল্পে ধস নেমেছে।
গাজীপুরে রয়েছে প্রচুর সংখ্যক ইটভাটা। ব্যাপকহারে নগরায়নের কারণে এ ইট ভাটাগুলোর চাহিদা রয়েছে যথেষ্ট। কিন্তু প্রকট সমস্যা হচ্ছে অধিকাংশ ইটভাটা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। আবাদি জমির মধ্যেই পরিবেশ অধিদপ্তরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চালু করা হয়েছে ইটভাটা। ফসলী জমিতে বাড়িঘরের আশেপাশে গড়ে তোলা হয়েছে এসব ইটভাটা। ফলে মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ক্রম নগরায়নের কারণে ইটের চাহিদা বৃদ্ধিতে ইটভাটাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে এসব ইটভাটা নির্মাণ করা হলে এ খাতও জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হিসাবে খ্যাতি লাভ করতে পারবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।