ঈসা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ

বাংলার বার ভুঁইয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভুঁইয়া ও সমরনায়ক হিসেবে পরিচিত ২২ পরগনার শাসক এবং বাংলার স্বাধীনতাকামী বীর সোনারগাঁও এর বীর ঈসা খাঁর ঘটনাবহুল জীবনের অসংখ্য স্মৃতি বিজড়িত স্থান হিসাবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে গাজীপুরের কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ। মহত্ হূদয়ের অধিকারী এ বীরের মৃত্যু ও সমাধি নিয়ে নানা জল্পনা ও কল্পকাহিনীর অস্তিত্ব থাকলেও ইতিহাসের কোথাও তাঁর সমাধিস্থলের কথা উল্লেখযোগ্যভাবে পাওয়া না গেলেও গাজীপুরের কালীগঞ্জের বক্তারপুরেই তাঁর সমাধির সন্ধান পাওয়া যায়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ পর্যালোচনায় জানা যায়, ঈসা খাঁর পিতা প্রথমে ছিলেন হিন্দু। তিনি ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলাদেশে (কোথা থেকে জানা যায়নি) ব্যবসা-বাণিজ্য করতে আসেন। পরে তিনি মুসলমান হয়ে কালিদাস গজদানী নাম পরিবর্তন করে সোলায়মান খাঁ নাম ধারণ করেন। তাঁর টাকা পয়সা ও বিত্ত বৈভব ছিল প্রচুর। পরবর্তীতে তিনি বঙ্গে অন্যতম জমিদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। মোঘল সম্রাট হুমায়ুনের শাসন-দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শেরশাহ দিল্লীর সিংহাসনে বসেন। পাঁচ বছর ভারতবর্ষ শাসন শেষে কালীগঞ্জের দুর্গের বারুদখানায় আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটলে শেরশাহ ৯৫২ হিজরির ১১ রবিউল আউয়াল (১৫৪৫ সালের ২৩ মে) মৃত্যুবরণ করেন। শের শাহের মৃত্যুর পর জালাল খান ওরফে সেলিম খান ইসলাম শাহ নাম ধারণ করে ভারত সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসেন। তার শাসনামলে ভাটির শাসক সোলায়মান খাঁ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে শূর শাসিত দিল্লীর অধীনতা অস্বীকার করেন। তিনি জবরদখলকারী আফগানদের বিরুদ্ধে বার বার বিদ্রোহ করেন। ১৫৪৬-৪৭ সালের দিকে তিনি চূড়ান্ত বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঢাকা ও ময়মনসিংহের উত্তর-পূর্ব দিকে ভাটি অঞ্চলের একটি অংশে তাঁর স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁকে বশ্যতা স্বীকার করানোর জন্য সেলিম খানের আমলে তাজ খাঁ ও দরিয়া খাঁর নেতৃত্বে এক বিরাট সৈন্যদল প্রেরিত হয়। সোলায়মানের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি সাময়িকভাবে পরাজয় বরণ করলেও কিছুদিন পর আবারও বিদ্রোহ করেন। মোগল সেনাধ্যক্ষ কর্তৃক সমঝোতার কথা বলে সোলায়মান খাঁকে কৌশলে ডেকে এনে আটক করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে সোলায়মান খাঁর হন্তারক ও সেলিম খানের অধীনস্ত রাজ অমাত্য তাজ খাঁ কররানী রাজনৈতিক পালাবদলে বাংলার সিংহাসন দখল করে নেন। ইতিমধ্যে রাজ নির্দেশে সোলায়মান খাঁকে হঠকারী ও কাপুরুষোচিতভাবে হত্যা করায় তাঁর মধ্যে অনুশোচনা জাগ্রত হয়।