জলঢাকায় একমাস দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ

জলঢাকায় প্রায় ১ মাস ধরে জমি রেজিস্ট্রির কাজ বন্ধ আছে। জেলা রেজিস্ট্রার দলিল লেখক সমিতির সাথে সমঝোতার চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারেনি। অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই ’১৩ ইং তারিখে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্ট্রার খলিলুর রহমান হাওলাদার জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে তদন্তে এসে রাজস্ব ফাঁকিসহ জাল খাজনা-খারিজ দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রির প্রমাণ পান। এর প্রেক্ষিতে ২২ জুলাই জেলা রেজিস্ট্রার সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুস সালামকে প্রত্যাহার করে সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রশিদকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেন। আব্দুর রশিদ পরদিন অফিসে আসলে দলিল লেখকদের বাধার মুখে তিনি অফিস করতে না পেরে ফিরে যান। দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা সাব-রেজিস্ট্রারকে হুমকি দেয়ায় তিনি অফিস করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘদিন পর গত ১৮ আগস্ট জেলা রেজিস্ট্রার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সাদেকুর রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করেন। তাতেও সমস্যার সমাধান মেলেনি। দলিল লেখক সমিতির সভাপতিসহ কতিপয় স্বার্থান্বেষী দলিল লেখকের চাপ ও ভয়-ভীতির কারণে মাত্র ৪ জন দলিল সম্পাদনের কাজ করছেন। এ বিষয়ে জলঢাকা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন,‘নবায়নের জন্য গত জানুয়ারি মাসে অফিসে জমাকৃত দলিল লেখকদের লাইসেন্স জমা দিলেও আজ পর্যন্ত সেগুলো আমাদেরকে ফেরত না দেয়ার কারণে আমরা এর প্রতিবাদে দলিল লেখার কাজ বন্ধ রেখেছি।’ দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার সাদেকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দলিল লেখকদের অযৌক্তিক দাবির কারণে জনসাধারণ হয়রানির শিকার হচ্ছে।’ জেলা রেজিস্ট্রার খলিলুর রহমান হাওলাদার বলেন, দলিল লেখকদের একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবত্ জাল দলিল, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছিল, তদন্তে এসব বেরিয়ে আসায় তারা বেসামাল হয়ে নানা অজুহাতে দলিল লেখার কাজ বন্ধ রেখেছে।