রাস্তায় গাছ ফেলে টার্গেট পরিবহনে ডাকাতি

সংকেত ‘কাজ আছে’, অস্ত্র ‘মাটি-খোয়া-লাঠি’

আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর অফিস

‘কাজ আছে’ মোবাইলে এমন কথার সংকেত দিয়ে স্পট এবং সময়ের উল্লেখ করে ডাকাত সদস্যরা একত্রিত হয়ে থাকে। নৈশ পরিবহনে ডাকাতিকালে তারা বাজারের ব্যাগে মাটি আর ইটের খোয়া বহন করে থাকে। অস্ত্র বলতে শুধুমাত্র লাঠি। রাস্তায় গাছ ফেলে ডাকাতিকালে এমন ‘বাংলা কায়দায়’ সজ্জিত ডাকাত সদস্যদের কেউ চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা আক্রমণ করলে মৃত্যু তাদের অনিবার্য-সাংবাদিকদের এমন কথা বলেছেন খোদ একজন ডাকাত সদস্য। ডাকাত সদস্য সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার নকিপুর গ্রামের শেখ মনির উদ্দিনের ছেলে মো. ওহিদুজ্জামান বাবুকে মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হলে তিনি এভাবেই বর্ণনা করেন ডাকাতির আদ্যপ্রান্ত।

ওহিদুজ্জামান বাবু জানান, আগে শ্যামনগরের একটি খাবার হোটেলের কর্মচারী ছিলেন তিনি। প্রায় ৬ মাস আগে খদ্দেরবেশি এক ডাকাতের প্রলোভনে তিনি ডাকাতদলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এ পর্যন্ত ৫টি ডাকাতিতে অংশ নিয়েছেন। এর আগে খুলনার চুকনগর সড়ক, যশোর-মণিরামপুর সড়কের কুয়াদা, রাজগঞ্জ মণিরামপুর সড়ক, কেশবপুর ও তালায় ডাকাতি করেন। তিনি আরও জানান, দলের নেতা আবুল কাশেম, সাইফুল, হাবিবুর প্রথমে পরিকল্পনা করেন। তারপর তারা ফোনে টার্গেট এলাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে বলেন। সন্ধ্যায় আশপাশের বাগানে অবস্থান নেন। এরপর টার্গেট এলাকার ঝুলেপড়া গাছের গোড়া করাত দিয়ে কেটে দড়ি বেঁধে রাখা হয়। দূর থেকে পরিবহন আসতে দেখলে গাছের রশি ধরে টান দেওয়া হয়। এতে রাস্তায় গাছ পড়ায় টার্গেট পরিবহনের কোচটি দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়। এরপর গাড়িতে উঠে লোকজনকে দা, বোমার ভয় দেখালেই সব দিয়ে দেয়।

দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) সালাউদ্দিন শিকদার জানান, বন্দুকযুদ্ধে একজন ডাকাত নিহত হয়েছে। এছাড়া ডাকাত সিন্ডিকেটের ১১ সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। আটককৃতদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পেয়েছি। এতে যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মানুষের মধ্যে স্বস্তি আসবে।

আটককৃত ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা হলেন, খুলনার ডুমুরিয়ার চাকুন্দিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের শাহিনুর, চুকনগর দক্ষিণপাড়ার শহিদুল গাজী, চুকনগর গ্রামের ধনি রাম দাস, একই উপজেলার উত্তর বেতা গ্রামের আজিবর গাজী, চাকুন্দিয়া গ্রামের বাবর আলী শেখ ওরফে বাবু, যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিঙ্গা গ্রামের আসলাম বিশ্বাস, মণিরামপুরের মথুরাপুর গ্রামের আসলাম হোসেন ওরফে ইমরান, একই গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে মিন্টু, ইত্তা মাঠপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ওহিদুজ্জামান বাবু ও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার  গোপালপুর গ্রামের মিজানুর গাজী।