ঢাকায় সরকার পরিবর্তন দিল্লির জন্য আত্মঘাতী

 জঙ্গিবাদের পুনরুত্থানের আশঙ্কা  প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে দিল্লির প্রতিদান দেয়া উচিত  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুয়েমিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত  সীমান্ত চুক্তি ভারতের নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রয়োজন বিশ্বের অন্যতম বড় মুসলিম দেশের নেতা হয়েও শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় বিষয় থেকে ধর্মকে পৃথক রাখা, রাজনৈতিক সংযম ও আঞ্চলিক অর্থনীতি সংহত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যে বিষয়গুলো ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশী দেশগুলোতে তেমন একটা দেখা যায় না। যদি ভারত এমন একটি প্রতিবেশীর প্রতি প্রতিশ্রুতি না রাখে ও এর ফলশ্রুতিতে শেখ হাসিনার সরকার পরিবর্তিত হয় সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থানে সক্রিয়ভাবেই দায় থাকবে ভারতেরই। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে যখন জিহাদি রাজনীতি সক্রিয় হচ্ছে সেই সময়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে একই ধরনের সন্ত্রাসবাদের উত্থান হবে ভারতের জন্য আত্মঘাতী। গত সোমবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক নিবন্ধে এসব কথা বলা হয়। নয়াদিল্লির অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো সি. রাজা মোহনের লেখা ‘হোয়াট দিল্লি মাস্ট সে, হোয়াট ঢাকা নিডস টু হেয়ার’ শীর্ষক নিবন্ধে মূলত বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন, ভারতের কূটনৈতিক ব্যর্থতা, বিরোধী দল বিজেপি’র নেতিবাচক ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়। নিবন্ধে বলা হয়, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকার তাদের মেয়াদের শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। গত কয়েক বছরে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ইউপিএ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনমোহন সিং দুই মেয়াদে সেই সম্পর্কই রক্ষা করে চলেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের ক্ষেত্র প্রসারিত হয় ঐ বাজপেয়ীর সরকারের সময়ে। যেটা বর্তমান ইউপিএ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে চূড়ান্ত রূপ পায়। কিন্তু নয়াদিল্লি তা গুরুত্ব না দেয়ায় সে সম্পর্ক এখন ঝুঁকিতে। তাই এ মুহূর্তে ভারতের ঐতিহাসিক পররাষ্ট্র নীতি রক্ষায় বিরোধী দলের সমর্থন দরকার। নিবন্ধে বলা হয়, আঞ্চলিক লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান ইউপিএ সরকারকে রাজ্য সরকারগুলোর তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুয়েমীর জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক সম্পর্ক এখন প্রায় বিনাশের মুখে। কূটনৈতিক নীতির ইস্যুতে ভারতের আঞ্চলিক দলগুলো দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিতে পারে। কিন্তু জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো ভারতের নিরপত্তার স্বার্থে তাদের দায়িত্বকে অস্বীকার করতে পারে না। এতে আরো বলা হয়, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকে এ সীমান্ত ইস্যু ঝুলে আছে। দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। দীর্ঘ বিলম্বের পর চলতি সপ্তাহেও পার্লামেন্টে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তির বিল তৃণমূল কংগ্রেস ও আসাম গণপরিষদের বিরোধিতার মুখে উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিরোধী দল বিজেপিও এ বিলের বিষয়ে রাজনৈতিক লুকোচুরি খেলছে। তাদের উচিত এ বিল পাসের জন্য প্রকাশ্যে সমর্থন করা। সি. রাজা মোহন নিবন্ধে বলেন, পৃথক সার্বভৌম সীমানা ভালো সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের জন্য প্রয়োজনীয়। বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার সমাধান হলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি হবে এটা বুঝতে কারো রকেট বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি আরো বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যখন ভারতের সম্পর্ক তিক্ত ছিল তখন শেখ হাসিনার সরকার দিল্লির প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। এখন ভারত সীমান্ত চুক্তি ও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে দিল্লির বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রশ্ন দেখা দেবে। কারণ ভারতের সন্ত্রাসবাদের উদ্বেগের বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকার সর্বাত্মকভাবে ভূমিকা রেখেছে। এখন দিল্লি এ ধরনের ভালো কাজের প্রতিদান না দিলে প্রতিবেশী দেশগুলো শুধু লোকদেখানো সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী হতে চাইবে। এ অবস্থায় যদি শেখ হাসিনার সরকার পরিবর্তিত হয় তাহলে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থানে সক্রিয় দায় থাকবে ভারতেরই। এটা গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে। তাই সীমান্ত বিল পাস এখন অনেক জরুরি। আর এক্ষেত্রে বিজেপির সমর্থন না থাকলে সীমান্ত বিল পাস করা সম্ভব হবে না। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষায় তাই বিজেপিকে স্পষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে।