জিএসপি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসম্যান

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের আরো ভাল কিছু করার সুযোগ আছে

মার্কিন কংগ্রেসম্যান সেন্ডার স্যান্ডি লেভিন বলেছেন, বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কারখানার মালিক, ক্রেতা প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। জিএসপি সুবিধা বাতিলের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি নেতিবাচক নয়, গঠনমূলক। আমাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) আর বাংলাদেশের আরো ভালো কিছু করার সুযোগ আছে। ঢাকায় দুইদিনের সফর শেষে গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে লেভিন এসব কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা সফরের বিষয়ে লেভিন বলেন, অল্প সময়ের জন্য হলেও এ সফর ছিল ফলপ্রসূ। প্রধানমন্ত্রীসহ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র সচিবের সাথে তার বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাজরিন ফ্যাশন্স-এর অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধসের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ সারাবিশ্বকে নাড়া দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য বাংলাদেশের সাথে আমরা মিলে কাজ করতে পারি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের গুরুত্ব আমাদের কাছে অনেক। ৪০ লাখ লোক এ খাতে কাজ করে যার সিংহভাগ হচ্ছে নারী। তাদের কথা চিন্তা করে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কারখানার অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে কংগ্রেসম্যান লেভিন বলেন, এ খাতের উন্নয়নে বেশকিছু পদে্ক্ষপ নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, বড় বড় ব্রান্ডগুলোর সাথে মিলিত হয়ে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের সাথে কাজ করছে। কিন্তু ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি অনেক জটিল বিষয়। এ খাতে আরো কাজ করতে হবে। কংগ্রেসম্যান লেভিন শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কারখানায় শ্রমিকদের সংগঠন করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এটি করা হলে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা হবে। এছাড়া শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন, এটি পৃথিবীর যেকোন দেশের চেয়ে কম মজুরি। শুধু অগ্নিকাণ্ড বা ভবন ধস ঠেকালেই হবে না, শ্রমিকরা যাতে জীবন ধারণের মতো মজুরি পায় সে বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে। কংগ্রেসম্যান বলেন, এ কাজগুলো সঠিকভাবে করা হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থগিত করা জিএসপি ফিরে পেতে বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে। এ সময় সাংবাদিকদের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেন, জিএসপি সুবিধার বিষয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আবারো শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৫ সালের জুন মাসে আরো একবার শুনানি হবে। তিনি বলেন, এরপর দরকার হলে প্রতি দুই বছর পর পর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, কংগ্রেসম্যান লেভিন বাংলাদেশ সফরকালে বিজিএমইএ’র নেতারাসহ শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছেন। এছাড়া তিনি দুটি তৈরি পোশাক শিল্প কারখানাও পরিদর্শন করেন।