আগামীকাল মুক্তি পেতে পারেন মোবারক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৬
মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজধানী কায়রোর একটি আদালত। শিগগিরই তিনি মুক্তি পাচ্ছেন। তবে আজ না আগামীকাল তিনি মুক্তি পাচ্ছেন সেই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। এদিকে মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাত্মিক নেতা মোহাম্মদ বাদিয়ির ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কোন সাহায্য ছাড়াই চলতে পারবে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
মিসরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই মুক্তি পেতে যাচ্ছেন দুই বছর আগে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত মোবারক। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম আল-আহরাম থেকে ‘উেকাচ’ গ্রহণ করার একটি মামলার শুনানির পর মোবারককে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে না। ফলে ৮৫ বছর বয়সী মোবারকের মুক্তিতে আর বাধা নেই বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার কিংবা আগামীকাল শুক্রবার তিনি মুক্তি পেতে পারেন। এর আগে আরব বসন্তের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ার একটি মামলায় সাবেক এই স্বৈরশাসককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করায় পুনর্বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। মামলাটির পুনর্বিচার গত মে মাসে শুরু হয়। তবে মোবারক মুক্তি পেলেও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা কম। ধারণা করা হচ্ছে, সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকায় সাবেক এই সেনা শাসক সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করবেন, এমনকি এই মামলায়ও জামিন পেয়ে যাবেন তিনি। ২০১১ সালে গণবিক্ষোভের মুখে মোবারকের ৩০ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। অবশ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসির বিরুদ্ধে আটকাদেশ বাড়াতে নতুন একটি মামলায় অভিযোগ জমা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাউয়ি বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কোন সাহায্য ছাড়াই চলতে পারবে। এদিকে ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের ওপর রক্তক্ষয়ী অভিযান চালানোর প্রেক্ষাপটে কায়রোর সাথে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশ সঠিক পথে এগুচ্ছে। মুরসির সমর্থকদের ওপর সামরিক বাহিনীর ব্যাপক অভিযানে ৯শ’ জনের অধিক লোক নিহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি মিসরে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করছেন না। এর আগে মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ মুরসির মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করায় দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনী ও গত ৩ জুলাই সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির আদালত বিক্ষোভকারীদের হত্যাযজ্ঞ চালাতে প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে মোহাম্মদ বাদিয়ের ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের পর এই প্রথম ব্রাদারহুডের কোন শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হলেন। অন্তর্বর্তী সরকার বাদিয়েকে গ্রেফতার করায় ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক দল দ্রুততার সাথে সংগঠনের চৌকস নেতা মাহমুদ ইজ্জতকে বাদিয়ির স্থলাভিষিক্ত করে। ইজ্জত তার রাজনৈতিক জীবনে কয়েকবার জেল খাটেন এবং তিনি সংগঠনের ‘লৌহমানব’ হিসেবে পরিচিত।