শামসুর রাহমানের গল্প

বিদীর্ণ আয়নায় মুখ

কবি শামসুর রাহমান এই বাংলায় কবি হিসেবে অসাধারণভাবে পরিচিত, নন্দিত ও বন্দিত। কিন্তু গল্পকার শামসুর রাহমান কী অতটা পরিচিত? মনে হয় না। আমরা তাঁর কবিতা নিয়েই সবসময় বিভোর থাকি। মগ্ন থাকি। কিন্তু গল্পকার হিসেবেও শামসুর রাহমান সমান সার্থক। কবিতার তীব্র ডামাডোলে তাঁর গল্প বা গদ্যসম্ভার আড়ালে চলে গেছে। উপন্যাসও লিখেছেন কয়েকটি—অক্টোপাস, নিয়ত মন্তাজ, অদ্ভুত আঁধার এক, এলো সে অবেলায়। উপন্যাসের বাইরে লিখেছেন একটি প্রবন্ধগ্রন্থও। উপন্যাস ও প্রবন্ধের বাইরে শামসুর রাহমান গল্প লিখেছেন ছয়টি। তাঁর মতো একজন কবির জন্য ছয়টি গল্প খুব বেশিকিছু নয়। কিন্তু গল্পকার যেহেতু কবি শামসুর রাহমান, সেক্ষেত্রে আমাদের আগ্রহ ও কৌতূহল তীব্র। গল্পগুলোর জমিন শামসুর রাহমানের মনোজগতের মতোই অন্তবয়নের কারুকাজে সাজানো। ২০০২ সালের বইমেলায় ‘শামসুর রাহমানের গল্প’ গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ঢাকার আজিজ মার্কেটের স্বরব্যঞ্জন প্রকাশনী থেকে। সেই বইটিকে কেন্দ্র করে এই আখ্যান রচিত হচ্ছে। গল্পের ভেতরে প্রবেশের আগে গল্পগুলোর নাম জানিয়ে দিই—‘সে, একটি ব্লেড এবং সুরভি’, ‘সাযযাদ আমিনের কথা’, গাঙচিল’, ‘প্রৌঢ়ের প্রবজ্যা’, ‘বর্ষা রাতে নুপূর ধ্বনি’ এবং ‘না রোধ না জ্যোত্স্না’। ছয়টি গল্পের আখ্যান সুষমামণ্ডিত কারুকাজে, চরিত্রের বুননে আর পরাবাস্তবতার মিশেলে অনবদ্য। তাঁর গল্পের চরিত্র মধ্যবিত্তের উঠোন থেকে এসেছে। চেনা আর অচেনার মাঝখানে নিটোল ধোঁয়াশার জাল বিস্তার করে চরিত্রগুলো পাঠকের কাছে আসে। শামসুর রাহমানের গল্পের ধারা—জীবনের অনন্ত প্রবাহ। মানব চরিত্রের গভীরে জারিত থাকা আশা, দুঃখ, আনন্দ তাঁর গল্পের জমিনে সবুজ ঘাসের মতো জড়িয়ে থাকে। আশা—তাঁর গল্পে খুব একটা নেই, তবে চরিত্রের ভেতর দিয়ে মানব জীবনের আলো অন্ধকারের দোলা দেখতে পাওয়া যায়। আমরা এখন যে বন্ধ্যা সময় অতিক্রম করছি—গল্পকার শামসুর রাহমান তাঁর গল্পে, গল্পের অবকাঠামো এবং চরিত্রের ভেতর দিয়ে সেই বন্ধ্যা ও নিষ্ফলা সময়কে গেঁথে রেখেছেন। ‘সে, একটি ব্লেড এবং সুরভি’ গল্পের চরিত্র জামিল আহমেদ। অফিস থেকে বেশি রাত করে বাসায় ফিরে দেখতে পায় স্ত্রী ফাতিমা বিছানায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। পাশে কন্যা কবিতা। কবিতা প্রশ্রাব করে বিছানা ভিজিয়ে দিয়েছে। এবং প্রশ্রাবের টাটকা ঝাঁঝালো গন্ধ নাসারন্ধ্রে ধাক্কা খায়। এবং গল্পটি যাত্রা শুরু করে। জামিল স্মৃতির পদ্মপুকুরে ডুব দেয়, গল্পের ডালপালা বিস্তার করতে থাকে। স্মৃতির অনেক আকাশ নদী পাড়ি দিয়ে জামিল এক সময়ে পুরুষ হয়ে ওঠে। ‘জামিল বিছানার দিকে, ফাতেমার দিকে এগোয়। ফাতেমার পাশে এসে যায়। শোয়ার চেষ্টা করে ঠেলেঠুলে। দুটো চৌকিতেও জায়গা হয় না সবার। ছোট ছোট চৌকি। আরেকটি আনলে ঘরে তিল ধারণের জায়গা থাকবে না। তাছাড়া তৃতীয় চৌকি কেনার মতো সাধ্য নেই আপতত। ঘুমন্ত ফাতেমাকে জড়িয়ে শোয়, অভ্যস্ত হাত কলম্বাস হয়, তার হাত ঘোরে স্তনে, নিতম্বে, তলপেটে। মুখ রাখে বুকে, কেমন টকটক দুধেল গন্ধ। সরিয়ে আনে মুখ বুক থেকে, স্তনের বোটা লাগে নাকে, আবার সেই টক টক দুধ দুধ গন্ধ। ঘুমন্ত ফাতেমাকে, এভাবে ব্যবহার করতে কিছুটা আ্যাাডভেঞ্চারের স্বাদ পায় জামিল।’ ‘এই শুরু হয়ে গেলো আবার, তোমার জ্বালায় নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি না একটু। শুধু তুমি এটাই বোঝ।’ ফাতেমার ঘুম ততক্ষণে চটে গেছে। জামিল অপরাধীর মতো ব্যবহার করে আর নিজের ব্যবহারকে রীতিমতো উপভোগ্য মনে হয় ওর। হাত সরিয়ে নেয় জামিল, ক্ষিপ্রগতিতে ব্লাউজের বোতাম আঁটে ফাতেমা। চোখ বন্ধ করে। ঘুমভরা কণ্ঠে বলে, ‘ভাত খেয়েছো? আজ নলা মাছ আ মুখীকচু রেঁধেছিলাম। পছন্দ হয়েছেতো তরকারি?’ ‘জামিল চুপ মেরে যায়। আনমনা। কেমন খোলাখোলা লাগে চতুর্দিকে। ফাতেমাকে, নিজের স্ত্রীকে, পুরোনো ব্লেডের মতো লাগে, ঠান্ডা আর ভোঁতা।’ নাগরিক জীবনের কারাগারে বন্দি আমাদের আলেখ্য ও আর্তনাদ, কামনা ও ঈর্ষা, সুখ ও অসুখের নান্দনিকতাবোধ ‘সে, একটি ব্লেড এবং সুরভি’ গল্পে দারুণ কৌশলে সাঁটিয়ে দিয়েছেন গল্পকার শামসুর রাহমান। জামিল মূলত আমাদের মতো থেতলে যাওয়া মধ্যবিত্তের সকাল দুপুর বিকেল সন্ধ্যা ও রাতের আশ্চর্য প্রতিনিধি। বাস্তব এবং পরাবাস্তবতার চৈতন্যে জামিলের জন্য পাঠকদের মনে জমা হয় মমতা, করুণা আর ব্যর্থতার ঘৃণা। পাঠক আর জামিলকে এক আয়নায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন গল্পকার শামসুর রাহমান। তীক্ষ কৌশলী সৃজনে গল্পটি ডানা মেলে ওড়ে বাংলার মধ্যেবিত্তের আকাশ চৌহদ্দিতে। মানুষের জীবনচক্র স্রোতে ভাসমান এক ভেলা। ভেসেই চলে সে ভেলা। মানুষ কখন কোথায় কার ঘাটে নোঙর করবে—মানুষ নিজেই জানে না। মানুষ পরিমাপও করতে পারে না, কখন কোথায় কতটুকু চাওয়া উচিত। মানুষের মনস্তত্ত্ব জটিল। সেই জটিল মন ও মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলতে খুব পছন্দ করেন গল্পকার শামসুর রাহমান। এমন কী তাঁর উপন্যাসসমূহের চরিত্রগুলোও মন ও মনোবিকারের থালায় নৃত্য করে। সমাজে ভণ্ডামি এখন পেয়ালা উপচে পরছে। মানুষ, মুখোশ পরতে খুব পছন্দ করছে। সত্যকে স্বীকার করে না অধিকাংশ ক্লান্ত, দলছুট, মর্ষকামী চরিত্রগুলো। গল্পকার শামসুর রাহমান তাঁর ‘গাঙচিল’ গল্পের চরিত্র নেসারকে অন্যরকম এক আয়নায় প্রতিস্থাপন করেন। ‘গাঙচিল’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যে একটি ভালো গল্প। চিরকালের নিষিদ্ধ মানবিক ও শারীরিক বোধের সমুদ্র থেকে শামসুর রাহমান এই গল্পটির আখ্যান বেছেছেন। তিনি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। পাঠ করেছেন এন্তার সাহিত্য, অনুভব করেছেন মানুষের মনের গভীরে নিষিক্ত রক্তজবার ঘ্রাণ। চেখেছেন দুর্লভ অনুভূতি আর অনুভবের সারত্সার। সেইসব অভিজ্ঞতা ও নির্মাণের ছাঁচে তিনি তৈরি করেছেন ‘গাঙচিল’ গল্পের নেসারকে। নেসার সুস্থ সমর্থ একজন তরুণ। সে পৃথিবীর রূপ রস সৌন্দর্য ভালোবাসে। সুন্দর পৃথিবী থেকে সে সহসা মরে যেতে চায় না। কিন্তু বাসায়ও থাকতে চায় না। কারণ, তার ছোটবোনের প্রতি তীব্র অঘোষিত আকর্ষণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। দীবা ছোট বোন নেসারের। খুব আদরের ছোটবোন। এক মায়ের পেটের অবশ্য নয়। ওর মা মারা গেলে বাবা তৌফিক আহমেদ বিয়ে করেছেন। নেসার তার মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু দ্বিতীয় মায়ের পেটে জন্ম নেয়া বোনটার প্রতি এই জান্তব আকর্ষণ তাকে ব্যবচ্ছেদ করে, রক্তাক্ত করে, লোভী করে, কখনো কখনো নিজেকে নিজে খুন করে। তাকে তার সত্তা দংশন করে। নেসারকে আগুননদীর পারে দাঁড় করিয়ে দেয়—বাসনার ঘণ্টি। এই বিপন্ন বিধ্বস্ত সময়ে নেসারের ঘরের মধ্যে কয়েকটি গাঙচিল ঢুকে পড়ে। গাঙচিলগুলো প্রায়ই আসে গভীর রাতে তার ঘরে। নেসার ভাবে, সে কি স্বপ্ন দেখছে। যদি স্বপ্ন দেখে, কীভাবে সম্ভব? একটা স্বপ্ন, একই স্বপ্ন একজন মানুষ রাতের পর রাত দেখতে পারে না। তাহলে? সে কোন কুহকে তাড়িত একজন নেসার? কী তার পরিচয়? সে কী করবে? কিসে তার মুক্তি? দীবার সান্নিধ্য খুব খুব ভালো লাগে নেসারের। একদিকে গভীর রাতের গাঙচিল অন্যদিকে শারীরিকবোধের তীব্র শীত্কারে দীবার অস্ত্বিত্বের ঘনঘটায় নেসার এক জটিল সর্বনাশের সমুদ্রে ওঁত পেতে থাকা জালে জড়িয়ে পড়ে। মানব মনের জটিল এই কুহককে গল্পকার শামসুর রাহমান এঁকেছেন এইভাবে— ‘কী এ নাম দেবে নেসার? এই অনুভূতির কথা, দীবা বিষয়ে তার ভাবনার কথা কাউকে বলা যায় না, এমন কী নিজেকেও নয়। দীবা ইংরেজী সাহিত্যের ভালো ছাত্রী, সুন্দরী। বেশিরভাগ সময় মনে থাকে না যে, দীবা ওর পিতার ঔরসজাত সন্তান, সম্পর্কে ওর বোন। সকল সম্পর্কের বাকল ফুঁড়ে যে নগ্ন, অমলিন, সুন্দর গাছটি বেরিয়ে আসে, সে দীবা নয়, ওর বোন নয়, এক চিরকালীন নারী, বন্দনীয় যার রূপ। যে ভাবনার জালে নেসার দীবাকে বন্দি করে রেখেছে সেই জালটি সম্পর্কে দীবা সম্পূর্ণ বেখবর। সে যখন হঠাত্ নেসারকে স্পর্শ করে কোনো কথার ফাঁকে, তাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা থাকে না। সহজ স্বাচ্ছন্দ্যভাবে সে নেসারের হাত ধরে, কখনো কখনো আচরণে এতটুকু মালিন্য নেই। নিজের বিষয়ে এ কথা বলতে পারবে না নেসার। সে দীবাকে ভালোবাসে, একজন পুরুষ যেমন একজন নারীকে। সে জানে, এ কথাগুলো উচ্চারণযোগ্য নয়। কাউকে কোনোদিন বলা যাবে না।’ ‘দীবাকে তো নয়ই—অমন সুন্দর একটি মুখকে না করে দেবার অধিকার তার নেই।’ ‘দীবাকে ঘিরে আমার মনে যে বিষাক্ত ফুল ফুটেছে’, ভাবে নেসার ‘তাকে নিয়ে আমি কী করব?’ ‘ওর ভারি ইচ্ছে কের দীবাকে স্পর্শ করতে আদর করতে। ওর সে অধিকার আছেও, তবুও দীবাকে ছুঁতে ওর সাহস হয় না। কেননা সে জানে, ওর কামনা সেই স্পর্শে জড়িয়ে থাকবে সাপের মতো। যদি সেই সাপ ফণা তুলে ফুঁসে ওঠে কোনোদিন?’ নেসারের ভেতর দীবা সংক্রান্ত এই কামনা বোধ জেগে ওঠে বছর তিনেক আগে। সে নিজেকে যথেষ্ট শাসন করছে। কিন্তু শাসন কামনার অনিয়মতান্ত্রিক দ্রোহ ঝড়ের স্রোতে ভেসে যায়। নেসার পতিতও নয় কামনা ও বাসনার তীব্র আগুনে। মানুষের মনের কোণে ষড়রিপুর এই চক্র, বড় ভয়ানক চক্র। এই চক্রই সর্বনাশের অনেক কারণ। নেসার জানে। নিজেকে নিয়ে বিব্রত। কুণ্ঠিত। কোথায় তার পথ? অনেক যন্ত্রণার শেষ প্রান্তে এসে নেসার সংসার থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। সংসার, বোনের জীবন এবং নিজেকে বাঁচাতে সরে পড়ে নেসার এক অন্ধকার রাতে। শামসুর রাহমান ‘গাঙচিল’ গল্পে গোপন অভিসারের এক মনস্তাত্ত্বিক জগতের দুয়ার খুলে দিয়েছেন। মনের বিকার, মনের আগুন, মনের হলাহল মানুষের সমূহ সর্বনাশের ক্ষেত্রফল তৈরি করে। আবার সংযমী মানুষ নিজেই সর্বনাশের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে নিজেকে অতিক্রম করে। নেসার—‘গাঙাচিল’ গল্পের প্রধান চরিত্র নির্মাণের মধ্যে দিয়ে গল্পকার শামসুর রাহমান শেষ পর্যন্ত মানুষের ভেতরের শুভবোধ ও মানবিকতাকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন। ব্যক্তি শামসুর রাহমানও ছিলেন প্রবল মানবিক, সৌজন্যবোধে সমৃদ্ধ একজন মানুষ। সব সময়ে তিনি প্রগতি ও কল্যাণের পথে হেঁটেছেন। ‘গাঙচিল’ গল্পটির শেষ অংশটুকু পাঠকের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। কারণ—গল্পের শেষে বাস্তব এবং পরাবাস্তবের যৌথ সংযোগে গল্পটি পেয়েছে অন্যমাত্রা। গল্পের চরিত্র নেসার, পাঠক, আর গল্পকার মিলে এক অশরীরী জীবনালেখ্য তৈরি হয় গল্পের দেয়ালে দেয়ালে। ‘গাঙচিলগুলো একে একে উড়ে আসে নেসারের ঘরের ভেতর। কেউ বসে জানালার গ্রিলে, কেউ আলনায়, কেউ বা বিছানায়, কেউ কেউ মেঝেতে ঠাঁই করে নেয়। নেসার সুটকেসটা বন্ধ করে। কী খেয়াল হলো ওর সাইড ব্যাগে গ্রাহাম গিনের ‘‘ওয়েজ অব স্পেক’’টাও নিল। হাতে সুটকেস তুলে নেয় নেসার। এক্ষুনি বেরুতে না পারলে আর এই বাড়ির মায়া কাটিয়ে উঠতে পারবে না। সে পা বাড়ায়। পা বাড়াবার সঙ্গে সঙ্গে সে লক্ষ করে গাঙচিলগুলো ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘুমন্ত না মৃত ওরা? নেসার ঝুঁকে একটা গাঙচিল হাতে তুলে নেয়। এত হিম ঠান্ডা বস্তু এর আগে কখনো স্পর্শ করেনি। মৃতদের যে ঠান্ডা বাক্সে রাখা হয়, সে রকম শীতল মনে হলো গাঙচিলটাকে। ওর হাত থেকে পাখিটা মেঝেতে পড়ে যায়। নেসার বুকের ভেতরে একটা বিষাক্ত ফুল নিয়ে মৃত গাঙচিলদের ডিঙিয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকে, হাত রাখে ডোর-নবে।’ নেসার চলে যায় কিন্তু রেখে যায় দগ্ধ জীবনের তৃষ্ণা। নেসারের রেখে যাওয়া তৃষ্ণাই এই গল্পের আদি ও অন্ত। যার নির্মাতা শামসুর রাহমান। তিনি মাত্র ছয়টি গল্প লিখেছেন। তাও লিখেছেন ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০০ সালের মধ্যে। বইটির ছোট্ট ভূমিকায় রাহমান লিখেছেন—বন্ধুদের বিশেষ অনুরোধে তিনি গল্প লিখতে বাধ্য হয়েছেন। সেইসব বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই, যারা শামসুর রাহমানকে দিয়ে এই নান্দনিক গল্প লিখিয়েছেন। তাঁর মধ্যে গল্প লিখবার বিস্ময়কর ক্ষমতা ছিল। তিনি কি জানতেন? মনে হয় জানতেন না। জানলে স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণায় আরও গল্প লিখতেন। হয়তো অবসর পাননি। তাঁর হাত থেকে গল্প বের হলে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ হতো । শামসুর রাহমান গল্পগুলো লিখেছেন অসাধারণ নৈর্ব্যক্তিক চেতনায়। তাঁর গল্পে মানব মনের ক্ষুধার্ত লোভ বিকীর্ণ আগুনের ডানা মেলে দেয়। চরিত্রগুলো সমাজের স্বাভাবিক কাঠামোর বিন্যাস থেকে উঠে এসেছে। ছয়টি গল্পের আখ্যান গড়ে তুলেছেন তিনি নাগরিক বারান্দা থেকে। কারণ, তিনি এই নগরজীবনকেই ভালো চেনেন, জানেন। বাঙালি জীবনের নিবিড় জলতরঙ্গে তাঁর গল্পগুলো ভাস্বর হয়ে থাকবে।