মসজিদের উত্পত্তি ও ক্রমবিকাশ
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৩৫
মহান আল্লাহ্র প্রতি ভয় ও ভরসায় মসজিদ মুসলিম সমাজের অন্যতম পবিত্র স্থান ও শ্রেষ্ট অহংকার। আল্লাহ্র আনুগত্যের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও সামষ্টিক আত্ম নিবেদনের স্থান-‘মসজিদ’। এ জন্য মসজিদকে ‘বায়তুল্লাহ্’ বলা হয়। আরবি ‘মাসিজদ’ শব্দের রূপান্তর মসজিদ, অর্থ সিজদা করবার স্থান। মুসলিম ঐতিহ্য, স্থাপত্য কৌশল, বিজয় স্মারক এবং শিক্ষা ও প্রশাসনিক বহুবিধ উজ্জ্বলতায় এবং উচ্চতায় মসজিদ অনন্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে—“নিশ্চয়ই মসজিদ সমূহ আল্লাহ্র” (জ্বিন:১৮)। মানব সভ্যতার জীবন্ত স্মারক নির্দশন বিশ্বের মসজিদ সমূহ। পৃথিবীর সর্ব প্রথম মসজিদ হলো পবিত্র ‘কাবা শরিফ’। পবিত্র কুরআনের ভাষায়—“মানুষের ইবাদতের জন্য সর্বপ্রথম ঘর মক্কার কাবা শরিফ,যা অত্যন্ত বরকতময়- মানুষের জন্য হেদায়েত স্বরূপ”(আল-ইমরান:৯৬)। পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রচীনতম মসজিদ—মসজিদুল আকসা বা ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’। সাধারণভাবে বলা হয় এর নির্মাতা হযরত সোলেমান (আ.)। আলোচ্য মসজিদদ্বয়ের উল্লেখ পবিত্র কুরআনের সূরা বানী ইসরাঈলের সূচনায় রয়েছে। তবে কালের বির্বতনে কাবাঘরের সার্থক পূণঃনির্মাতা হযরত ইব্রাহিম (আ.)। একথাও পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। প্রিয়নবী (স.) হিজরতের পর মদীনায় নির্মান করেন,‘মসজিদে নব্বী’। আবার মদীনার অদূরে খেজুর পাতা ও কাঁচা-ইট পাথর দিয়ে প্রিয়নবী (স.) ‘কুবা’য় একটি মসজিদ নির্মান করেন। বলা চলে বিশ্বের বুকে আজকের মসজিদগুলো ঐ সব সাদামাটা মসজিদের ধারাবাহিক গর্বিত উত্তরাধিকার । কাবাশরিফ, মসজিদুল আক্সা, মসজিদে নববী বিশেষভাবে মর্যাদাবান। এছাড়াও সুপ্রসিদ্ধ মসজিদের দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে হেবরন মসজিদ, মসজিদুল কিবলাতাইন, মসজিদুল গামামা ইত্যাদি। আব্বাসীয় আমলে মসজিদ কেন্দ্রীক এক নিরব বিপ্লব শুরু হয়, তখন শুধু বাগদাদেই ত্রিশ হাজার মসজিদ ছিল। আর কায়রোর জা’মে মসজিদে পাঁচ হাজার ছাত্র সমবেত হতেন—যারই ঐতিহাসিক বিবর্তন ও সম্প্রসারিতরূপ আজকের‘আল-আজহার’ মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। এ জন্য মসজিদ আবাদকারীর প্রশংসায় পবিত্র কুরআনে আছে—“নিশ্চয়ই তারাই মসজিদকে প্রাণচঞ্চল রাখে যারা আল্লাহ্ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাসী এবং নামাজ কায়েম করে” (তওবা:১৮)। বাংলাদেশ হলো মসজিদ কেন্দ্রীক সমাজের আদর্শ। রংপুরের ৪৮ কি.মি.দুরে লালমনির হাট জেলা সদরের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ‘মজেদর আড়া’ নামক স্থানে ৬৯ হিজরি (৬৯২ খ্রি.) বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ও প্রাচীনতম মসজিদ নির্মিত হয়। অন্যদিকে ‘জাতীয় মসজিদখ্যাত’ ‘বায়তুল মুকার্রম’ আধুনিক ঢাকার কেন্দ্র স্থলে নির্মিত হয় ২৬ ডিসেম্বর ১৯৬২ সালে। আমাদের রাজধানী ঢাকাকে ‘মসজিদের শহর’ বলা হয় এর সংখ্যা, স্থাপত্য শৈলী ও নান্দনিকতার জন্য। খোদ ঢাকা শহরেই প্রায় চার হাজার মসজিদ রয়েছে। এখানেই আল্লাহ্র বাণীর সার্থকতা—“এরাই তো সে সব লোক যাদেরকে ব্যবসা-বানিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহ্র স্মরণ, সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান হতে বিরত রাখে না” (নুর:৩৭)।ঢাকার অন্যতম প্রচীন নির্দশন চক বাজার জ’মে মসজিদ। সুবাহ্দার শয়েস্তা খান ১৬৭৬ খ্রি.মসজিদটি নির্মান করেন। নির্মান শৈলীর কারণে যা কি না ‘ আবাসিক মাদ্রাসা মসজিদ’। মোহাম্মদপুর এলাকায় অবস্থিত ‘ঢাকার ঐতিহ্য’ ‘সাত গম্বুজ মসজিদ’ নির্মিত হয় ১৬৭৬ মতান্তরে ১৬৮০ খ্রি. ব্যস্ত ঢাকার কাওরান বাজারে (কাজী নজরুল এভি. খাজা আম্বর ১৬৮০ মতান্তরে ১৬৭৭-৭৮ যে মসজিদ নির্মান করেন তা ‘আম্বর শাহ্’ মসজিদ নামে সুপরিচিত। মোঘল স্থাপত্য বৈশিষ্টি মন্ডিত নির্মান শৈলীর একমাত্র উল্লেখযোগ্য সুবৃহত্ নিদর্শন ‘লালবাগ শাহী মসজিদ’। সুবাহ্দার আজিমুশ্শানের প্রিয় শাহজাদার নামে একে ‘ফারুক সিয়ার মসজিদ’ও বলা হয়। মসজিদটি ১৭০৩-০৪ খ্রি.নির্মাণ হয়। (সংক্ষেপায়িত)