ফেরত যাচ্ছে কেসিসির ২ কোটি টাকার এলইডি বাল্ব প্রকল্প
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৩, ২০:৪৪
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সিদ্ধান্তহীনতায় ফেরত যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এলইডি বাল্ব প্রকল্পের প্রায় দুই কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় সরবরাহকৃত এইচইডি বাল্ব-শেড নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এর কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে কেসিসি। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের সমাপ্তকরণ রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এর ভেতরে বাল্বের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিলে রিপোর্টের সাথে ফেরত পাঠাতে হবে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। সড়ক বাতিতে বিদ্যুত্ সাশ্রয়ের জন্য নেয়া এই প্রকল্পটি পাইলট আকারে কেসিসিকে প্রদান করা হয়। কেসিসিতে এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সড়ক বাতিতে আধুনিক এই এইচইডি বাতি প্রতিস্থাপন করার কথা রয়েছে। কেসিসি এবং ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) প্রকৌশলীরা বলছেন, সরবরাহকৃত বাল্ব মানসম্পন্ন এবং আলো সন্তোষজনক। এর আয়ুষ্কালও দরপত্রের চেয়ে দু’বছর বেশি। কিন্তু শেড নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় পুরো প্রকল্পই ভেস্তে যেতে বসেছে।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর এলইডি ও এইচইডি বাল্ব সরবরাহের দরপত্র আহবান করে কেসিসি। দরপত্রের ৫টি প্যাকেজের মধ্যে অন্যতম ছিল শেডসহ ১ হাজার ৮০০টি ৩৫ ওয়াটের এইচইডি বাল্ব সরবরাহ। যার মূল্য ছিল ১ কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার টাকা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডেস্ক কর্পোরেশন চলতি বছরের ৩১ মার্চ বাল্বগুলো সরবরাহ করে। বাল্ব সরবরাহের পর দেখা যায়, বাল্বের শেড চওড়ায় দরপত্রের বর্ণিত মাপের তুলনায় কম। এ নিয়ে বির্তক শুরু হলে বাল্ব গ্রহণ করা যাবে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য কেসিসির ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলী আকবর টিপুকে আহবায়ক, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান ও কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খানকে সদস্য করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গত ২১ জুলাই তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘সরবরাহকৃত বাল্ব মানসম্মত। এর শেড চওড়ায় ২৫ মিলিমিটার কম হলেও এটি কোনো ত্রুটি নয়। আলো সন্তোষজনক।’ কিন্তু নির্বাচিত পরিষদ না থাকায় এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কেসিসির কর্মকর্তারা। এরপর প্রকল্প স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাডেস্ক কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুন্নবী সুজন বলেন, শেডটি ল্যাম্পের সাইজ অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে যাতে আলো সরাসরি সড়কে পড়ে। বিদায়ী সিটি মেয়র চীনে গিয়ে লাইট ও শেড কিভাবে তৈরি হচ্ছে তা দেখে এসেছেন। কেসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র আজমল আহমেদ তপন বলেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এদিকে এইচইডি বাল্ব সম্পর্কে ধারণা দিতে নগরীর ডাকবাংলো চত্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় পর্যন্ত ২০টি বাল্ব লাগিয়েছে কেসিসি। গত বুধবার রাতে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অন্যান্য সড়কে লাগানো ৬৫ ওয়াটের এনার্জি সেভিং বাল্ব থেকে ৩৫ ওয়াটের এইচইডি বাল্বের আলো বহুগুণ বেশি। সড়কে লাগানো এনার্জি বাল্ব থেকে এটি দেখতেও সুন্দর। আলোর তীব্রতাও অনেক বেশি।