চেলসির সৌভাগ্যপ্রসূত জয়

বার্নিস্ল্যাভ ইভানোভিচের গোলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেল চেলসি। তবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে গত বুধবার রাতে তাদের এই জয়ে সৌভাগ্যের পাশাপাশি দারুণ ভূমিকা রেখেছে বাজে রেফারিংও। অ্যাস্টন ভিলা ম্যানেজার পল ল্যাম্বার্ট পরাজয়ের জন্য তাই দোষ চাপিয়েছেন রেফারির কাঁধেই। তবে প্রতিপক্ষ কোচকে ‘অনভিজ্ঞ’ আখ্যা দিয়ে জয়ের পেছনে এমন কিছুর ভূমিকা অস্বীকার করেছেন স্বাগতিক কোচ হোসে মরিনহো। ম্যাচ শেষে কোন রাখঢাক না রেখেই ল্যাম্বার্ট বলেন, ‘দুটি ভুল সিদ্ধান্তই আমাদের হারিয়েছে।’ ল্যাম্বার্টকে অবশ্য দোষও দেয়া যাচ্ছে না। কারণ ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ইভানোভিচ যখন জয়সূচক গোলটি করেন তখন আসলে তার মাঠেই থাকার কথা ছিল না। ম্যাচের ৭১ মিনিটে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ান বেনেটেকে মারাত্মকভাবে কনুই চালানোর অপরাধে হলুদ কার্ড দেখেন ইভানোভিচ। তবে টিভি রিপ্লেতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল অপরাধের মাত্রার তুলনায় শাস্তিটা কমই পেয়েছেন ইভানোভিচ। এর মিনিট দুই পরেই দুর্দান্ত এক হেডে ভিলার জালে বল পাঠিয়ে চেলসির জয়সূচক গোলটি করেন সার্বিয়া জাতীয় দলের এই অধিনায়ক। ল্যাম্বার্ট বলেন, ‘আমি জানি এটি একটি শারীরিক খেলা তবে পরিষ্কারভাবেই সে কনুই চালিয়েছে। এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলোকে আপনি কখনোই এড়িয়ে যেতে পারবেন না। এগুলোই আসলে খেলাটার গতিপথ পাল্টে দেয়। আমার দলের কখনোই এটি পাওনা ছিল না।’ এখানেই শেষ নয়। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে চেলসি বেঁচে গেছে নিশ্চিত পেনাল্টির হাত থেকেও। ভিলা স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েলের সাথে বল দখলের লড়াইয়ের একপর্যায়ে ডি বক্সের মধ্যেই অধিনায়ক জন টেরির হাতে বল লাগে। তবে সেটি রেফারি কেভিন ফ্রেন্ডের চোখ এড়িয়ে যায়। নিশ্চিত পেনাল্টি না পেয়ে ল্যাম্বার্ট তাই দারুণ হতাশ, ‘এটা যে একটা হ্যান্ডবল সেটি সবাই দেখেছে। গ্যাব্রিয়েলই বলের দখল পেয়েছিল। এরপর জন টেরি হাত তুলে সেটা ঠেকাতে চায়। এটি অবশ্যই পেনাল্টি ছিল।’ তবে প্রতিপক্ষ কোচের এমন দাবির সাথে বরাবরের মতোই মোটেই একমত নন মরিনহো! ইভানোভিচকে বাঁচাতে মরিনহো ঢাল হিসাবে নিলেন ইংলিশ লিগের স্টাইলকে। মরিনহোর দাবি, এই লিগের রীতিটাই নাকি এমন যে, এখানে এমন শারীরিক বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করা হয়, ‘এটাই ইংলিশ ফুটবল। এমন কিছু বিষয় আছে যে কারণে অন্য সব লিগগুলোর তুলনায় মানুষ ইংলিশ লিগকেই বেশি ভালবাসে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে খেলোয়াড়দের আগ্রাসী মনোভাব। আরেকটি হচ্ছে দুজন খেলোয়াড়ের মধ্যে ব্যক্তিগত যুদ্ধ। রেফারি ম্যাচের শুরু থেকে ৯৫ মিনিট পর্যন্ত দারুণভাবে সবকিছু সামলেছে। এটা ছিল বেনেটে আর ইভানোভিচের মধ্যে ফুটবলীয় একটা দ্বৈরথ। সুতরাং দুপক্ষ থেকেই আঘাত-পাল্টা আঘাত আসবে। এটাই আসলে ফুটবল।’ মরিনহো একহাত নিয়েছেন ল্যাম্বার্টকেও। তবে বয়সের সাথে সাথে তার আচরণ বদলে যাবে বলেই মনে করছেন ‘স্পেশাল ওয়ান’! নিজে আরো দশ বছর আগে অনেকটা এমন ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সে তরুণ এবং বুদ্ধিমান। সে এখন হয়তো রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্তই প্রতিবাদ জানাবে। তবে অভিজ্ঞতার সাথে সাথে সে পাল্টে যাবে।’ এর আগে ম্যাচের শুরুতেই অ্যান্তোনিও লুনার আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় চেলসি। আর বিরতির ঠিক আগে আগে সফরকারীদের সমতায় ফেরান বেনেটে।