উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫২
ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। অমাবস্যার জোয়ারে বিভিন্ন স্থানে সাগরের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। মৌসুমী নিম্নচাপ ও টানা বৃষ্টি পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় গত দুই দিনে তিনবার লোকালয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশের পর আতঙ্কিত মানুষ সর্বশেষ আশ্রয় হিসেবে বেড়িবাঁধ রক্ষায় সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করছে। সাগর পাড়ে আয়োজন করা হয়েছে দোয়া মাহফিলের। আমাদের বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গত বুধবার সকাল ও বিকাল এবং গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জোয়ারের পানিতে উপকূলবর্তী ইউনিয়ন খানখানাবাদের প্রেমাশিয়া, মৌলভীপাড়া, কদমরসুল, রায়ছটা, রোসাংগিরিপাড়া ও সিন্ধিপাড়াসহ ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাঁশখালী উপকূলের বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ায় নিম্নচাপ, টানা বৃষ্টি বা অমাবস্যা-পূর্ণিমার মতো পরিস্থিতিতে সাগরের লোনাপানি বিনা বাধায় লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক আবু জানান, গত দুই যুগ ধরে বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদের টেকসই কোন বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। গত চার-পাঁচ বছর আগে ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকার কাজ করলেও কাজের গুণগত মান ভাল না হওয়ায় অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই তা ধসে গেছে। বিশেষ করে প্রেমাশিয়া থেকে কদমরসুল পর্যন্ত বেড়িবাঁধটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি সাগরচরের ঝাউ বাগান নিধন করার ফলে টিকে থাকা বেড়িবাঁধও হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেড়িবাঁধের ভাঙন যাতে না হয় সেজন্য গতকাল খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সাগরপাড়ে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। খানখানাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা এলডিপির সভাপতি আবদুস সবুর চৌধুরী জানান, গত ১৯ ও ২০ আগস্টের জোয়ারে উপকূলের খানখানাবাদ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বেড়িবাঁধ অরক্ষিত থাকায় বর্তমানে উপকূলবাসী চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে। তিনি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি জানান।
আমাদের মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, মনপুরায় অমবস্যার জোয়ারে মেঘনায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে তৃতীয় বারের মত ওয়াপদার প্রায় দুই কিলোমিটার ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে অহরহ পানি ঢুকছে। এতে ৪নং দক্ষিণ সাকুচিয়া, ২নং হাজিরহাট ও ১নং মনপুরা ইউনিয়নের ভিতরে পানি ঢুকে ১০ গ্রামের প্রায় বিশ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। প্লাবিত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও পানির অভাব। ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ সংস্কারে এখনো সরকারি কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জোয়ার আসলে ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে হু হু করে পানি প্রবেশ করে বাড়িঘর তলিয়ে যায়। আবার ভাটি হলে জোয়ারের পানি নেমে যায়। তাই জোয়ার আসার আগে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেয়। ভাটি হলে বাড়ি ফিরে। উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম বলেন, ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য আমরা সরকারের কাছে বরাদ্দ চেয়েছি। আশা করা হচ্ছে এই অর্থ বছরে ডিসেম্বরের দিকে কাজের জন্য টেন্ডার করা যাবে।
আমাদের খুলনা অফিস জানায়, মৌসুমী নিম্নচাপ ও টানা বৃষ্টিতে খুলনা অঞ্চলের উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলোর উপর পানির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিনদিনের ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানির চাপে দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা বেড়িবাঁধের কমপক্ষে ২০টি পয়েন্ট নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানির চাপে খুলনা শহর রক্ষা বাঁধও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার নগরীর রূপসা স্ট্যান্ড রোডের দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির সামনের একটি রিং বাঁধ ভেঙ্গে রূপসা ও এর আশপাশ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রাংশসহ আশপাশের জনবসতি পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির সামনে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধটি পাউবোর কোন প্রকল্প নয়। জেলা প্রশাসনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ বাঁধটি একবার সংস্কার করা হয়। এদিকে গত বুধবার খুলনা জেলা প্রশাসক মো: মেজবাহ উদ্দিন ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটাসহ জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, অবিরাম বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলোর উপর সার্বক্ষণিকভাবে নজর রাখা হচ্ছে।