বিজিবি’র চরখিদিরপুর বিওপি পদ্মায় বিলীন

অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ের পরও রক্ষা করা গেল না বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র (বিজিবি) চরখিদিরপুর বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি)। পদ্মার গর্ভে এটি বিলীন হয়েছে। গত বুধবার চরখিদিরপুর বিওপি’র ভেতরের দিকের একমাত্র দেয়াল অবশিষ্ট ছিল। পুরো বিওপি মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই পদ্মায় বিলীন হয়। বর্তমানে বিজিবি’র খানপুর বিওপি রক্ষার চেষ্টা চলছে। বুধবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আজিজুল হক, বিজিবি রাজশাহী সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল সরকার মোঃ শামসুদ্দিন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাজ্জাকুল ইসলাম ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পাউবো’র মহাপরিচালক আজিজুল হক ঠিকাদারদের উপর দোষ চাপিয়েছেন। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড তত্পর ছিল। কিন্তু ঈদের ছুটির কারণে ঠিকাদারদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে পদ্মার ভাঙ্গনে পবা উপজেলার চরখিদিরপুর ও চরখানপুরের তিনশ’ পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। তারা কোন খয়রাতি সাহায্য এমনকি চিকিত্সা সুবিধাও পায়নি বলে জানিয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ঐসব পরিবারের প্রায় সাড়ে তিন হাজার গবাদিপশু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বদান্যতায় পার্শ্ববর্তী ভারতের চরমুসরী নামক গ্রামের একটি মাঠে আশ্রয় পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, পদ্মার ভাঙ্গনে বুধবার পর্যন্ত একটি প্রাচীর ছাড়া চরখিদিরপুর বিওপির সম্পূর্ণ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। উক্ত বিওপি রক্ষায় সরকারের অর্ধকোটি টাকা ব্যয় কোন কাজে আসেনি। বর্তমানে বিওপির মালামাল নিয়ে বিজিবি সদস্যরা চরখিদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন। সূত্র মতে, চরখিদিরপুর বিওপির ১০৫ মিটার এলাকা রক্ষায় ৬৩ লাখ টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। ৮০ ভাগ কাজ করার পর বিওপিটি রক্ষার সম্ভাবনা না থাকায় গত সোমবার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন আবার নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে চরখানপুর বিওপি এলাকায়। সেখানে ২৮০ মিটার এলাকা রক্ষায় ২৫ জুলাই থেকে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ কাজ হয়েছে। ঈদের পরে ভাঙ্গন না থাকলেও এখন সেখানে নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, পদ্মা নদী চরখানপুর বিওপিরও খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। এখনই ভাঙ্গন ঠেকানো না গেলে ভারতীয় সীমান্ত খুব কাছে হওয়ায় ওই এলাকায় ভুখণ্ড হারাবে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে চরখানপুর বিওপির পশ্চিমে প্রায় ৫/৬ কিলোমিটার এলাকার জিরোলাইন ভেঙ্গে পদ্মা ভারতীয় অংশে ঢুকে পড়েছে। ওই এলাকায় আন্তর্জাতিক যৌথ নদী কমিশন আইনের অজুহাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সাধারণ মানুষ এমনকি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যদের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।