একাধিক নাম পরিচয়ে ১৯ বিয়ের পর স্ত্রীদের ভারতে পাচার!

একাধিক নাম পরিচয়ে ১৯টি বিয়ের পর স্ত্রীদের ভারতে পাচার করার অভিযোগে এক পাচারকারীর নামে যশোরের আদালতে মামলা হয়েছে। সর্বশেষ স্ত্রী রানী আক্তার সোনালী পাচারকারী চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে বুধবার এ মামলা করেন। বহু বিবাহের এ খলনায়ক পাচারকারীর নাম সোহেল রানা। তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রামজীবনপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। মামলায় সোহেল রানা, তার ভাই জাকির হোসেন, এক স্ত্রী রিক্তা সাদিয়া রূপা এবং দু’সহযোগী সাতক্ষীরার শ্যামনগরের হাবিবুর রহমান ও নারগিস খাতুনকে আসামি করা হয়েছে। রানী আক্তার সোনালী জানান, সোহেল রানা একেক সময় একেক নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করেন। কখনও ছোট বাবু, কখনও ডা. সানজিদ আহম্মেদ ইত্যাদি বলেন এবং আসল পরিচয় গোপন করেন। ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর রানী যখন একাদশ শ্রেণীতে পড়েন তখন সোহেল অবিবাহিত জানিয়ে তাকে বিয়ে করেন। এর আগেও বিভিন্ন সময় তার নাম পরিচয় গোপন করে বিয়ে করেন এবং স্ত্রীদের ভারতে পাচার করে বিভিন্ন অবৈধ কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করান। সর্বশেষ ঐ পাচারকারী তার ১৯ নম্বর স্ত্রী রানী আক্তার সোনালীকে ১৮ আগস্ট যশোরের শার্শার গোগা সীমান্ত দিয়ে ভারত পাচারের চেষ্টা করেন। রানীকে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নিয়ে যাওয়ার নাম করে ওই সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। রানী বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়দের জানান। অবস্থা বেগতিক দেখে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা সটকে পড়ে। এ ঘটনায় বুধবার যশোর জেলা জজ আদালতের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে রানী মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এজাহারভুক্ত করতে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।