প্যানেল মনোনয়নে ডাকা সভার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৩
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগে তিন জনের প্যানেল মনোনয়নের জন্য বিশেষ সিনেট সভা ডাকার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারকে নিয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ আগামী রবিবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। আবেদনে সভা করার উপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়ার পাশাপাশি সভা ডাকার সিদ্ধান্তকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে আবেদনটি শুনানির আগেই শনিবার এ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যে সিনেট সদস্যদের চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিন বিকাল সাড়ে তিনটায় এ সভা অনুুষ্ঠিত হবে বলে ঐ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ৭৩ এর ২১(২) ধারার অর্পিত ক্ষমতাবলে ভিসি ২৪ আগস্ট বেলা সাড়ে ৩টায় বিশেষ সভা আহ্বান করেছেন। সভায় ঢাবি আদেশ ৭৩ এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী চ্যান্সেলর কর্তৃক ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের জন্য তিন জনের একটি প্যানেল মনোনয়ন করা হবে। ভিসি প্যানেলে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব করা হবে, নাম প্রস্তাবকালে তাদের লিখিত সম্মতি সিনেটের চেয়ারম্যানের নিকট পেশ করতে হবে।’
এই সভা ডাকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাবির সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আফম ইউসুফ হায়দার, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজ ও সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ রিট আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩-এর ২০ অনুচ্ছেদ অনুসারে সিনেটের মোট সদস্য ১০৫ জন। এখন ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। বাকি ৫৫টি পদ শূন্য। সিনেট বলতে ১০৫ জন সদস্যকেই বোঝায়। এ কারণে এই সভা ডাকা অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত।
আবেদনে আরো বলা হয়, আগামী মাসে সিনেটের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন। ওই নির্বাচনে ২৫ জন সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসবেন। এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে তড়িঘড়ি করে ভিসি প্যানেল মনোনয়নের জন্য এই সভা ডাকা অসত্ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও রেজিস্ট্রারসহ চারজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
পরে এ আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করতে একটি বিশেষ বেঞ্চ দেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানান আবেদনকারীগণের আইনজীবী সাবেক এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি ও ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা অবকাশকালীন বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপনের পরামর্শ দেন। পরে আইনজীবীরা আবেদনটি বিচারপতি মো. হাবিবুল গণির বেঞ্চে নিয়ে গেলে আদালত রবিবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দেন।