মাগুরায় মাঠে তত্পর সম্ভাব্য প্রার্থীরা
দীপক রায় চৌধুরী, মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৪
মাগুরায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় তত্পরতা শুরু করেছেন। চলছে দলের পক্ষে, নিজের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি সমর্থিত ১৮ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয়। জাতীয় পার্টি প্রার্থীদের তত্পরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বড় দলগুলোর মনোনয়ন কারা পেতে পারেন, কার সম্ভাবনা বেশি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে সব জায়গাতেই। মাগুরা জেলায় জাতীয় সংসদের আসন রয়েছে দুইটি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুইটি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০০১ সালে একটি আওয়ামী লীগ অন্যটি পেয়েছিল বিএনপি। মাগুরা-১ আসন: মাগুরা সদর উপজেলার একটি পৌরসভা, নয়টি ইউনিয়ন ও সমগ্র শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে মাগুরা-১ আসনটি গঠিত। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. এম এস আকবর ১,৩৫,০৯৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ইকবাল আক্তার খান কাফুর। তিনি পেয়েছিলেন ১,০৯,৫৩৫ ভোট। এবারও এ আসন থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এম এস আকবর দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি এ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। স্বাভাবিকভাবে সেখানে নির্বাচনের কথাও হচ্ছে। আওয়ামী লীগ থেকে আরো কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সম্পাদক পংকজ সাহা। তিনি ইতিমধ্যে এলাকায় গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা কবীর মুরাদ, সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন খান, বিদ্রোহী গ্রুপের সম্পাদক ও পৌর মেয়র ইকবাল আক্তার খান কাফুর। এলডিপির কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন মোস্তফাও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন। জাতীয় পার্টি থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট হাসান সিরাজ সুজা।
মাগুরায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। সম্প্রতি মাগুরা পৌর সভার মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে একক প্রার্থী দিতে না পারায় মেয়র পদটি হাতছাড়া হয়। বিগত মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত আলতাফ হোসেন নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইকবাল আক্তার খান কাফুর নির্বাচিত হওয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনি একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আভির্ভূত হয়েছেন। জেলা বিএনপিতে গ্রুপিং রয়েছে। এখানে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অনুমোদিত জেলা কমিটি ও বিদ্রোহী গ্রুপের কমিটি রয়েছে। রয়েছে দুইটি অফিসও।
মাগুরা-২ আসন: মাগুরা সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও শালিখা, মহম্মদপুর উপজেলা নিয়ে মাগুরা-২ আসনটি গঠিত। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শ্রী বীরেন শিকদার ১,১৫,২৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। আওয়ামী লীগ থেকে ৯৬ ও ২০০৮ সালে নির্বাচিত দুই বারের এমপি অ্যাডভোকেট শ্রী বীরেন শিকদার এবারও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি ইতিমধ্যে এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ থেকে আরো কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এদের মধ্যে আছেন- এ আসন থেকে চার বার নির্বাচিত এমপি মরহুম অ্যাডভোকেট আছাদুজ্জামানের পুত্র জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুজ্জমান বাচ্চু, মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ওহিদুর রহমান টিপু প্রমুখ। বিএনপি থেকে সাবেক মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল দলীয় মনোনয়নের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। দুই জনই এলাকায় গণসংযোগ করছেন। কাজী কামাল তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ইতিমধ্যে বিশাল শোডাউন করেছেন। জাতীয় পার্টি থেকে ব্যাংকার মোসকাদুর রহমান ও মহম্মদপুর উপজেলা সম্পাদক খসরুল আলম দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। মাগুরা-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে।