এবার আদার বাজার গরম কমছে পিঁয়াজের ঝাঁজ

পিঁয়াজের পর এবার আদার বাজার গরম। গত এক মাসের ব্যবধানে খুচরাবাজারে প্রতি কেজি আদায় দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ ( টিসিবি)’র হিসেবেই আদার দাম বাড়ার এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তবে ভোক্তাদের জন্য সুখবর, কমতে শুরু করেছে পিঁয়াজের ‘ঝাঁজ’। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, মহাখালি ও শান্তিনগরবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আদা বিক্রি হয় ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। যা এক মাস আগে ছিল ৯০ থেকে ১২০ টাকা। টিসিবি’র হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৪২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে দাম বাড়ার হার ১১৪ শতাংশ। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেশে এবার আদার উত্পাদন খুব ভালো হয়নি। এছাড়া বিশ্ববাজারেও আদার দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে আদার দাম বাড়লেও পিঁয়াজের ‘ঝাঁজ’ কমতে শুরু করেছে। দুইদিন আগেও যে আমদানিকৃত পিঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকার উপরে তা এখন ৭৫-এ নেমে এসেছে। এছাড়া দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। পিঁয়াজ আমদানিকারক ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন খা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ভারতে পিঁয়াজের দাম কমার পাশাপাশি আমদানি বেড়েছে। এছাড়া সরকার পিঁয়াজ আমদানির ঘোষণা দিয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। দাম আরো কমবে বলেও তিনি জানান। প্রসঙ্গত: ভারতের ন্যাশনাল হর্টিকালচার রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এনএইচআরডিএফ) জানিয়েছে, এশিয়ায় পিঁয়াজের সব থেকে বড় পাইকারি বাজার নাসিকের লাসালগাঁওতে বর্তমানে প্রতি কেজি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২ দশমিক ৫০ রুপিতে। কিন্তু এক সপ্তাহ আগেও তা বিক্রি হয়েছে ৪৩ দশমিক ৫০ রুপিতে। এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় চড়া সবজির বাজার। গতকাল বাজারভেদে প্রতি কেজি আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, গাজর ৫৫ থেকে ৬০, করল্লা ৪৫ থেকে ৫০, ঢেঁড়স ৪৫ থেকে ৫০, পটল ২৫ থেকে ৩০, বেগুন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, সিম ৮০ থেকে ৯০, ঝিঙ্গা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা , মুলা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা , পেঁপে ২০ থেকে ২৫, কচুর লতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, বরবটি ৪৫ থেকে ৫০, টমেটো ৯০ থেকে ১১০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে সবজিভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। সবজির পাশাপাশি চালের দামও বাড়তি। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালভেদে কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। গতকাল বাজারে মানভেদে নাজিরশাইল/মিনিকেট ৩৭ থেকে ৫২ টাকা, পাইজাম/লতা মানভেদে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা ও স্বর্ণা/ ইরি মানভেদে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এ প্রসঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহমদ হোসেন খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এখন চালের দাম বাড়ার যৌক্তিক কোন কারণ নেই। বাজারের উপর নজর রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রি শুরু করা হয়েছে। আশা করছি, বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।