‘গঠনতন্ত্রে অনেক অসংগতি আছে’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নির্বাচনের এখনও দিন-ক্ষণ ঠিক হয়নি, নির্বাচন কমিশনারও গঠন করেনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কিন্তু কয়েক মাস ধরেই এই নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা চলছে। ক্ষমতাসীন দলের দুই সাংসদ ও ক্রীড়া সংগঠক সাবের হোসেন চৌধুরী ও নাজমুল হাসান পাপন মুখোমুখি হওয়াতে গত কিছুদিন ধরে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কথার লড়াই। প্রায় প্রতিদিনই দুই শিবিরের দুই নেতা কোথাও না কোথাও কথা বলছেন। স্বাভাবিকভাবেই একই কথাই বারবার বলছেন তারা। এমন অবস্থায় গতকাল নিজের বাসভবনে আবারও সংবাদ সম্মেলন করলেন বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। লম্বা সংবাদ সম্মেলন জুড়ে আসলে আগে বলা কথাই আবার বললেন এই অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক। তবে এর মধ্যে একটা ব্যাপার অন্তত নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী, গঠনতন্ত্রের অসংগতি দূর না করে বিসিবি নির্বাচন আয়োজনের অর্থ হল একটি অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রাখা। সোজা কথায়, ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বোর্ডে হস্তক্ষেপের অনেক সুযোগ এই গঠনতন্ত্র জিইয়ে রাখবে বলেই মনে করছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। বাংলাদেশের টেস্ট স্টাটাস প্রাপ্তি ও আইসিসি ট্রফি জয়ের মতো দুটি ক্রান্তিকালীন ঘটনার সময়ে বিসিবির দায়িত্বে ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। তারপরও নানা কারণে তার দল ক্ষমতায় এলেও সরকারের মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাননি তিনি। আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসনামলে সরকার মনোনীত সভাপতি হিসেবে প্রথমে আ হ ম মোস্তফা কামাল দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে নাজমুল হাসান পাপন দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ সভাপতি পদে নির্বাচনের বিধান রেখে বিসিবি নির্বাচনের ঘোষণা এলে সাবের হোসেন চৌধুরী নির্বাচনের ঘোষণা দেন। আগে থেকেই জানা থাকলেও নাজমুল হাসান পাপনও সমপ্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচন করবেন। দুই সভাপতি পদের আগ্রহী ‘হ্যাভিওয়েট’ প্রার্থী নির্বাচনে নামলেও সাবের হোসেন চৌধুরী গতকাল আবারও বললেন, এখনও ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন না। তবে আবারও আশাবাদ ব্যক্ত করলেন তিনি, ‘আমি যদি মনে করতাম যে, লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করা সম্ভব না, তাহলে তো নির্বাচনেই আসতাম না। ফলে আমি মনে করছি, সেটা সম্ভব। আর আমি আশাবাদী যে, নির্বাচন সবার জন্য একইরকমই হবে শেষ পর্যন্ত।’ ক্ষমতাসীন দলেরই দুজন গুরুত্বপূর্ণ সাংসদ এভাবে একটা নির্বাচনে মুখোমুখি হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বিস্মিত। সেই সঙ্গে দলের মধ্যে এর প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে আছে অনেক গুঞ্জন। তবে সাবের হোসেন আবারও বললেন, তার দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। এই মূল্যবোধের কারণেই দলের কাছে এই ধরনের গণতান্ত্রিক লড়াই ইতিবাচক লড়াই বলে বিবেচিত হয় দাবি করছেন এই সংগঠক। এসব বলার পাশাপাশি আর সব সময়ের মতো বর্তমান কমিটির বেশ কিছু কাজের; বিশেষ করে নির্মাণ কাজে দরপত্র আহবান না করা, খেলা মাঠে না রাখা, সংগঠকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করার মতো ব্যাপারে আবারও গতকাল তীব্র সমালোচনা করলেন সাবের। সেই সঙ্গে বিপিএলের ফিক্সিং প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবারও সব দুর্নীতির তদন্ত করার আহবান জানালেন, ‘দুর্নীতি সে যে সময়ই হয়ে থাকুক, তদন্ত করা উচিত। তাতে আমি, কামাল সাহেব, লবি সাহেব বা পাপন সাহেব; যিনিই দোষী হবেন, তাকে জবাব দিতে হবে।’ এসব কথা বলার পাশাপাশি আবারও সাবের হোসেন মুখোমুখি তর্কের আহবান জানালেন নাজমুল হাসানের প্রতি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা বললেন সাবের হোসেন এই নির্বাচনের ভবিষ্যত্ প্রসঙ্গে। যে গঠনতন্ত্রে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে মামলা বিচারাধীন আছে। মামলায় গঠনতন্ত্র অবৈধ বলে প্রমাণিত হলে নির্বাচন এমনিতেই অবৈধ হয়ে যাবে, এই শর্তেই আদালত নির্বাচনের নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া সাবের হোসেন বলছেন, গঠনতন্ত্রে এমন সব অসংগতি আছে, যাতে যে কোনো সময় এই গঠনতন্ত্র চ্যালেঞ্জ হতে পারে, ‘গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে ২৭ জন বোর্ড পরিচালক থাকবেন। অথচ ক্যাটাগরি অনুযায়ী পরিচালক মেলে ২৬ জন। আবার এই গঠনতন্ত্রে জেলা ও বিভাগ থেকে কাউন্সিলর পাঠানোর যে বিধান করা হয়েছে তা এনএসসি কর্তৃক অনুমোদিত জেলা ও বিভাগীয় গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব অসংগতি রেখে নির্বাচন করা মানে অস্থিতিশীলতার সুযোগ রাখা। কল্পনা করুন তো, এখন নির্বাচন হল, নতুন বোর্ড এলো; তারপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে বোর্ড নাই হয়ে গেল; তখন কী হবে!’