লেবাননে দুই মসজিদে জুমার নামাজে শক্তিশালী বিস্ফোরণ

লেবাননের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ত্রিপোলিতে দুটি মসজিদ লক্ষ্য করে চালানো শক্তিশালী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো চার শতাধিক মানুষ। ফলে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার জুমার নামাজের জমায়েতকে টার্গেট করে এই জোড়া হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থল দুটি সুন্নি অধ্যুষিত। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। সূত্র জানায়, জুমার নামাজ শেষ হতে না হতেই আল-তাকওয়া মসজিদ লক্ষ্য করে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই মসজিদেই নামাজ আদায় করে থাকেন প্রখ্যাত সুন্নি আলেম শেখ সালেম রাফি। তবে তিনি অক্ষত আছেন। প্রথম বিস্ফোরণের পাঁচ মিনিট পর দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে আল সালাম মসজিদ প্রাঙ্গণে। বিস্ফোরণের পর তাকওয়া মসজিদ থেকে এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেন, বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া কয়েকটি গাড়ির মধ্যে আমি সাতটি মৃতদেহ দেখেছি। সেখানে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। বাকিরা আল-সালাম মসজিদ প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী হাসান খলিল বলেন, দুটি বিস্ফোরণে ৪ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। স্থানীয় টিভিতে আল সালাম মসজিদের সিসিটিভির যে চিত্র দেখানো হয়, তাতে দেখা যায়, মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে বসে শান্তভাবে বয়ান শুনছেন। হঠাত্ করে গগণবিদারী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা মসজিদ। শুরু হয় দৌঁড়াদৌড়ি, হুড়োহুড়ি। বিস্ফোরণে ওই মসজিদের আশেপাশের বহু আবাসিক ভবনের দরজা জানালা ভেঙে গেছে। চারিদিকে নিহত ও আহতদের রক্তের উপর গড়াগড়ি খেতে দেয়া যায়। ছুটে আসে অ্যাম্বুলেন্স। কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। হিজবুল্লাহ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সমপ্রতি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে শিয়াদের লক্ষ্য করে একটি গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়। এর এক সপ্তাহের মাথায় সুন্নি অধ্যুষিত এলাকায় মসজিদে বোমাহামলার ঘটনা ঘটলো। প্রতিবেশি দেশ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর লেবাননে সামপ্রদায়িক সহিংসতা দেখা দিয়েছে। শিয়াদের আলাওতি সমপ্রদায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে সুন্নিদের সমর্থন পাচ্ছে বিদ্রোহীরা। এ নিয়ে দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।