ইয়াসমিন ট্র্যাজেডির ১৮তম বর্ষপূর্তি আজ

আজ ২৪ আগস্ট পুলিশী হেফাজতে ইয়াসমিন হত্যার ১৮তম বর্ষপূর্তি। ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে ১০ মাইল নামক স্থানে পুলিশী হেফাজতে ধর্ষিত ও নিহত হয় তরুণী ইয়াসমিন। এই বর্বরোচিত ঘটনায় জনতা প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠে। ২৭ আগস্ট আহ্বান করা হয় গায়েবী জানাজা। দুপুরে জানাজা অভিমুখী জনতার স্রোতে গুলি করে বসে পুলিশ। শাহাদত বরণ করেন ৭ জন নিরীহ লোক। ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে সিআইডি ১৯৯৬ সালের ১৪ মে এস আই মইনুল, কনষ্টেবল সাত্তার, ড্রাইভার অমৃত লাল, কোতয়ালী থানার ওসি মাহাতাব উদ্দীন, এ এস আই জাহাঙ্গীর আলম, এ এস আই স্বপন চক্রবর্তী, এ এস আই মতিউর রহমান (ওসি ওয়াচ) এবং এসপি আব্দুল মোতালেবকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৬ (৪) এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ২০১/৩ ধারায় চার্জশিট দাখিল করে। ১৯৯৬ সালের ৬ জুন ইয়াসমিনের লাশের প্রথম ময়না তদন্তকারী ডাক্তার মো. মহসীনকে আসামি করে সাপলিমেন্টরী চার্জশিট দাখিল করা হয়। দীর্ঘ ১২৩ দিনের শুনানি এবং ৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রথমোক্ত ধারায় আসামি মইনুল, সাত্তার এবং অমৃতের ফাঁসির নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞ বিচারক মামলার রায় ঘোষণা করেন ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট। ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর আসামিদের মধ্যে এস, আই মইনুল ও কনষ্টেবল সাত্তারের ফাঁসি কার্যকর হয়। এরপর ড্রাইভার অমৃত লালের ফাঁসিও কার্যকর করা হয়। ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ড স্মরণে প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ২৪ আগস্ট-নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে এ বছর বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, মিছিল, ইয়াসমিনের কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা।