গণতন্ত্র সংকটে পড়লে চরম মূল্য দিতে হয় জনগণকে
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালো দিবসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেছেন, গণতন্ত্রের বিকল্প গণতন্ত্রই। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিতরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। এর ব্যত্যয় ঘটলেই সংকট সৃষ্টি হয়। দেশে যতবার নির্বাচন ও গণতন্ত্র সংকটে পড়েছে, ততবারই জনগণকে চরম মূল্য দিয়ে তা ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। সংলাপ ও সমঝোতা ছাড়া গণতান্ত্রিক পথযাত্রা জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে না।
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তারা এ কথা বলেন। ২০০৭ সালের ২০-২৩ আগস্ট সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর এ দিনটিকে কালো দিবস হিসাবে পালন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।
ছাত্র-শিক্ষক কেন্দে আলোচনা সভায় ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সেই ঘটনায় তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদ এবং সেনা প্রধান মইন উ আহমেদকে তাদের বক্তব্য প্রদান করতে বলা হলে তারা তুচ্ছ অজুহাত দেখিয়ে মেইল এবং ফ্যাক্সের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তারা দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এমন বক্তব্য শুনে আমরা আশ্চর্যান্বিত হয়ে যাই। অথচ তখনকার সেনা কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করা হলে তারা বলেছিলেন সবকিছু ‘ওপরের নির্দেশেই’ হচ্ছে। তিনি তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীন, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলী আকবর, কারা নির্যাতিত ছাত্র জাহিদ বিপ্লব।
এদিকে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘প্রতিবাদী ছাত্র ও শিক্ষকবৃন্দের’ ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সংকটকে আরো বাড়ায়। রাজনৈতিক দলগুলোর বিশ্বাস ও আস্থাহীনতা পরাশ্রয়ী শক্তিকে সুযোগ করে দেয়। এজন্য দেশপ্রেমিক রাজনীতিক-শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীসহ সকলকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।
সমাবেশের সভাপতি কবি অধ্যাপক মুহম্মদ সামাদ বলেন, আগস্ট নির্যাতনের ঘটনার আসল কুশীলবদের এখনো বিচারের সম্মুখীন করা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের বর্বরোচিত নির্যাতন করা হয়েছে। জাতীয় জীবনে এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন বলেই তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল। সেনা শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আর যেন পুনরায় না ঘটে।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানীর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মীজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ড. জীনাত হুদা, কারা নির্যাতিত ছাত্র রফিকুল ইসলাম সুজন।
২০০৭ সালের ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ ীয় খেলার মাঠে ফুটবল খেলা দেখার সময় কয়েকজন সেনা সদস্য ছাত্রদের মারধর করেন। এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ প্রেক্ষিতে তত্কালীন সেনা সমর্থিত সরকার সান্ধ্য আইন জারি করে এবং ২৩ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক এবং আট ছাত্রকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালায়।