বরগুনার দুই আসনে বিএনপি সরব, নিশ্চুপ আওয়ামী লীগ
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫২
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরগুনা জেলার দুটি আসনে গ্রাম-গঞ্জে তেমন উত্সাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না। চায়ের দোকানে আলাপ-আলোচনা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ, এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া, কুশল বিনিময়, ভোটারদের খোঁজ-খবর নেয়া সারাদেশে জোরেশোরে শুরু হলেও ব্যতিক্রম বরগুনা জেলার এ দুটি আসন। সম্ভাব্য তরুণ প্রার্থীদের কিছু শুভেচ্ছা পোস্টারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। আসন দু’টি হলোঃ বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) এবং বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী)।
এ দুটি আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা কিছুটা সরব থাকলেও মুখ বুঁজে আছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। সমপ্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় বরগুনা-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর অকালমৃত্যু এর অন্যতম কারণ বলে অনেকেই মনে করছেন। গোলাম সবুর টুলুর মৃত্যুতে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য’র পদটি শূন্য হয়েছে এবং কিছুদিনের মধ্যেই উপ-নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানালেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হেলালউদ্দিন খান। এ আসনে উপ-নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। আওয়ামী লীগ দলের প্রার্থীরা এখনও টুলুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলে জানালেন, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর কবীর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দল থেকে মনোনয়ন দিলে তিনি অবশ্যই নির্বাচন করবেন। বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক উপমন্ত্রী এডভোকেট ধীরেন্দ দেবনাথ শম্ভু বলেনঃ আমি বরগুনা-১ আসন থেকে তিন বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। উপমন্ত্রী থাকাকালীন বরগুনার যে উন্নয়ন করেছি তার ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত আছে। দল মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।বরগুনা প্রেসক্লাবে এক আলোচনাসভায় সাবেক সংসদ সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দিলে ভাল, অন্যথায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব’। দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলে, এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত্ করতে যে দল ক্ষমতায় যাবে সে দলেই যোগদান করবেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এ আসনে পরাজিত আমতলীর গোলাম সরোয়ার ফোরকানও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেনঃ জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, কেন্দ ীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. খলিলুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা ব্যবসায়ী মশিউর রহমান শিহাব প্রমুখ।
বরগুনা-১ (বরগুনা-আমতলী-তালতলী) আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হতে পারেন দু’বার নির্বাচিত সাবেক এমপি মতিয়ার রহমান তালুকদার, সাবেক এমপি এডভোকেট আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা বিএনপি সভাপতি মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা, জেলা কৃষকদলের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান লে.কর্নেল (অব.) আবদুল খালেক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রেজবুল কবীর। নির্বাচনে এরা প্রত্যেকেই দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশী। সাবেক এমপি মতিয়ার রহমান তালুকদার ইতিমধ্যে এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন।
বরগুনা-২ আসনে উপ-নির্বাচন হবে কিনা এ দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছেন এখানকার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় নেতারা। এরপরও যাদের নাম শোনা যায় তারা হলেনঃ আওয়ামী লীগের আমেরিকা প্রবাসী শিল্পপতি মাহবুবুর রহমান টুকু, বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট হারুন অর রশিদ,পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত হাসানুর রহমান রিমন, সাবেক মন্ত্রী শাহজাদা মালেক খানের পুত্র মালিক ফিদা এ মন্টি খান, অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর আবুল হোসেন সিকদার প্রমুখ। বিএনপি থেকে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক এমপি নূরুল ইসলাম মনি, বেতাগী পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শাহজাহান কবীর-এর নাম শোনা যাচ্ছে। বরগুনা-২ আসন থেকে সাবেক এমপি অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর হিরু ও সাবেক এমপি গোলাম সরোয়ার হিরু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে তাদের নিকটজনেরা জানিয়েছেন।
বরগুনা-২ আসনে (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। জনমত যাচাইয়ে তিনিই এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে।
বরগুনা জেলার সাবেক তিনটি আসনকে দুটি আসনে পরিণত করায় জনগণের দুর্ভোগ যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে প্রার্থীদের। বরগুনা-২ আসনে পাথরঘাটার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে বামনা হয়ে বেতাগীর উত্তর প্রান্তের দূরত্ব শতাধিক কিলোমিটার। এর মাঝখানে রয়েছে বিশাল বিষখালী নদী। অপরদিকে বরগুনা-১ আসনে বরগুনা ও আমতলীর মধ্যে বয়ে চলেছে প্রমত্তা পায়রা নদী। এ আসনেও এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার।