সিরিয়ায় গ্যাস হামলার অভিযোগ সত্য হলে চুপ থাকব না :ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, সিরিয়ায় নিরীহ জনগণের উপর রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের অভিযোগটি ভীষণ উদ্বেগের। তিনি আরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো জানার চেষ্টা করছে খবরটি সত্য কি না। যদি ওই হামলার অভিযোগ সত্য হয় তবে যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে বসে থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিতে অবশ্যই ‘মনোযোগ’ দিবে। অপরদিকে সিরিয়ার অন্যতম প্রধান মিত্র রাশিয়া বলেছে, সিরিয়ার বিদ্রোহীরা যে এই গ্যাস হামলার জন্য দায়ী তা ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দেশটি জাতিসংঘের রাসায়নিক বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এই অভিযোগের গ্রহণযোগ্য তদন্তের জন্য। একই সাথে তাদের পক্ষ থেকে সিরীয় প্রেসিডেন্টকে এই অভিযোগের তদন্তে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিএনএনে গতকাল শুক্রবার প্রচারিত এক সাক্ষাত্কারে বলেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র হামলার খবরটি সবার জন্য ভীষণ উদ্বেগের, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তো বটেই। তিনি বলেন, এটা অবশ্যই ছোটখাটো কোনো বিষয় নয়। চরম উদ্বেগজনক খবর এটি। আমরা সত্য জানার অপেক্ষায় আছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতো আমরাও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এবং মিত্রদের বাঁচানোর বিষয়টি ওয়াশিংটনের নজরে আছে। তবে যেকোনো ব্যাপারে একটি খবর শোনার পরপরই সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ার ফল সবসময় ভালো হয়না বলে তিনি ওই সাক্ষাত্কারে মন্তব্য করেন। মানবতা বিরোধী অপরাধ : এদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন গতকাল বলেছেন, সিরিয়ায় যেকোন ধরণের রাসায়নিক হামলা ‘মানবতা বিরোধী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি বলেন, দামেস্কর কাছে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে আনা রাসায়নিক অস্ত্রের কথিত ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে আর সময় নষ্ট করার কোন সুযোগ নেই। সিউলে এক অনুষ্ঠানে তাত্ক্ষণিক মন্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কর কাছে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের খবর আতঙ্ক ও উদ্বেগজনক। যেকোন পরিস্থিতিতে যেকোন স্থানে কোন ধরনের রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার হবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তিনি আরো বলেন, মানবতা বিরোধী এধরনের অপরাধ সংঘটনকারীর জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে কোন পক্ষ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কয়েকদিন আগেই দামেস্কে এসেছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত দল। ফলে বান এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত তদন্তে তাদেরকে সহযোগিতা করতে সিরিয়া কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোন বক্তব্য আসেনি। বান বলেন, এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার বিশেষ করে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দল যখন সিরিয়ায় তখন এর ব্যবহার সমগ্র আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় এবং আমাদের বিশ্ব মানবতার প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, বুধবার রাজধানী দামেস্কের কাছে সরকারি বাহিনীর রাসায়নিক গ্যাসের হামলায় এক হাজারের বেশী মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। তারা বিষাক্ত গ্যাস হামলার বিষয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছে। তবে সরকারি বাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছে।