বিদ্যালয় থেকে
সরানো হলো এমপি
রনির কার্যালয়
পটুয়াখালী প্রতিনিধি ও গলাচিপা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৩
অবশেষে গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন থেকে এমপি গোলাম মাওলা রনির রাজনৈতিক কার্যালয় সরিয়ে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর গতকাল শুক্রবার সকালে এমপি’র সমর্থকরা কার্যালয়ের চাবিটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেন বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ সেটিকে পুনরায় শ্রেণীকক্ষের উপযোগী করার কাজ শুরু করেছেন। বিদ্যালয়ের ওই ভবনটি এতোদিন অবৈধভাবে দখল করে এমপি’র দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মু. শাহ আলম মিয়া জানান, বিদ্যালয়ে প্রবেশপথের বাঁ দিকের ওই ভবনটি দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করার জন্য ভাড়া চেয়ে এমপি রনি সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রেজাউল করিম হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুল আলম লিখিত আবেদন করেন। সে প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে কক্ষটি ভাড়া দেয়া হয়। চুক্তি অনুসারে এক লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে মাসিক চার হাজার টাকা ভাড়ায় এমপির অনুসারীরা কক্ষটি ভাড়া নিলেও পরবর্তীতে তাঁরা আর কোনো টাকা দেননি।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মু. নাসির উদ্দিন জানান, আসলে সেসময় এমপি’র চাপে পড়ে পরিচালনা পর্ষদ বিদ্যালয় ভবনটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হিসাবে ভাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয় ভবনটি ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের নোটিস দেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু এর পর আড়াই বছর কেটে গেলেও তারা ভবনটির দখল ছাড়েন নি। এর পর গত ১৮ আগস্ট আবারো নোটিস প্রদান করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরদিন দৈনিক ইত্তেফাকে ‘বিদ্যালয় থেকে এমপি রনির কার্যালয় সরিয়ে নিতে নোটিস’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. মাইনুল ইসলাম ওরফে রনো বলেন, গতকাল শুক্রবার সকালে আমরা বিদ্যালয়ের ঐ ভবনটির চাবি হাতে পেয়েছি। সেখানে তাঁদের কিছু মালামাল আছে। সেগুলোর তালিকা করে রাখা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের এমপি রনি সমর্থিত অংশের সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুল আলম জানান, আমরা নোটিস পেয়েছি। এক মাসের মধ্যে কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকালই ভবনটি দখলে নেন।