কী করে এলো

অপটিক্যাল ফাইবার

হাল আমলের দ্রুত গতির যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেকটা জুড়েই রয়েছে অপটিক্যাল ফাইবার। মূলত তথ্য আদান প্রদানের জন্য একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে ওঠা এই অপটিক্যাল ফাইবার একদিকে যেমন দ্রুতগতিতে তথ্য আদান প্রদানের বাহক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে ঠিক তেমনি এতে করে যেকোনো ধরনের ছবি, ভিডিও বা তথ্যের গুনগত মানও এতে অনেকটাই অটুট থাকে। আর এ কারণেই প্রথাগত ক্যাবল বা ওয়ারলেস প্রযুক্তির চাইতে তথ্য আদান-প্রদানে অপটিক্যাল ফাইবারের উপর অনেকাংশেই নির্ভরশীলতা গড়ে উঠেছে। এ যুগের অপটিক্যাল ফাইবার যেভাবে আলোর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তথ্য বহন করে ঠিক সে ধরনের একটি ধারণা নিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রথম ভেবেছিলেন আঠার শতকের শেষ দিকে। ১৭৯০ সালে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে অপটিক্যাল কনসেপ্ট প্রথম আবিষ্কার করেন ফরাসি বিজ্ঞানী ক্লড চ্যাপে। তিনি অপটিক্যাল টেলিগ্রাফ নামে একটি যন্ত্রের সাহায্যে এবং অপারেটর হিসেবে মানুষের সাহায্য নিয়ে এক টাওয়ার থেকে অন্য টাওয়ারের মধ্যে একটি সীমিত দূরত্বে বার্তা পাঠানোর প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন। তবে এর কিছুদিন পরেই পরে ইলেক্ট্রিক টেলিগ্রাফের প্রচলন ঘটায় ক্লডের এই পদ্ধতি নিয়ে আর সেভাবে কোনো কাজ হয়নি। পরবর্তী সময়ে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৮০ সালে অপটিক্যাল টেলিফোন সিস্টেম আবিষ্কার করেন যা ফটোফোন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। তিনি বাতাসে আলোক সংকেত পাঠানোর চিন্তা-ভাবনা করেছিলেন। কিন্তু আবহাওয়া বা বাতাস আলোকে যথার্থভাবে ট্রান্সমিট করতে পারতো না বলে ফটোফোন নিয়ে পুরোপুরি সফল হতে পারেন নি গ্রাহামবেল। এ বাস্তবতায় অপটিক্যাল ফাইবার উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সুইস পদার্থবিদ ড্যানিয়ের কলোডোন এবং ফরাসি পদার্থবিদ জ্যাকোনেস ব্যাবিনেট। তারা ১৮৪০ সালে ফাইবারে যে আলোর পূর্ণ আভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয় তা আবিষ্কার করতে সমর্থ হন। এই ধারণা নিয়ে ১৯২০ সালে হেনরিক লাম ও মিউনিখ। তারা টেলিভিশনের ইমেজ বা ছবি স্বচ্ছ কাচদণ্ডের মধ্য দিয়ে বার্তা হিসেবে পাঠাতে সক্ষম হন। কিন্তু তাদের আবিষ্কৃত এই ব্যবস্থায় পাঠানো ইমেজের মান খুব একটা ভালো ছিল না। কারণ এ পর্যায় যেভাবে ট্রান্সমিশন করা হতো, তার সবই ছিল আনক্লাডিং। সেই কারণে বেশিরভাগ আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় সিগন্যাল বা বার্তার সংকেতও দুর্বল হয়ে যেত। পরবর্তীতে আমেরিকান পদার্থবিদ ব্রায়ান ও’ ব্রেইন ক্লাডিং অপটিক্যাল ফাইবার উদ্ভাবনে সক্ষম হলে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে পাঠানো বার্তার মান অক্ষুণ্ন রেখে তা প্রেরণের উপায় আবিষ্কৃত হয়।