ফুলবাড়ীতে বিলুপ্তির পথে বাঁশ শিল্প
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৪
বাঁশ শিল্প বাঙালি জাতির সংস্কৃতির একটি অংশ। বাঁশ মানুষের নিত্যসঙ্গী। বাঁশ শিল্প বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য। প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, প্লাস্টিক সামগ্রীর সহজলভ্যতা এবং উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ফুলবাড়ী উপজেলার সুজানেরকুটি গ্রামের বাঁশ শিল্প এখন বিলুপ্ত হতে চলেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বাঁশ শিল্পে চলছে চরম মন্দা। ফলে এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল লোকজন বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে আবার এ পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছে অন্য পেশায়। বাঁশের ওপর নির্ভর করে সুজানেরকুটি গ্রামে গড়ে উঠেছে কুটির শিল্প । আর এ পেশায় জড়িত গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামের লোকেরা রাস্তার ধারে বাড়ির আঙ্গিনায় বসে বাঁশের চটা দিয়ে চাটাই, কুলা, ডালা, চাঙ্গারি, মাছ রাখার খালই, ঝুড়ি, মোড়া, ঝাঁকা, মুরগির খাঁচাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরির কাজ করতো। গৃহণীরা রান্না-বান্না ও ঘরের কাজ শেষে এসব তৈরিতে যোগ দিত। তৈরি সামগ্রী গ্রামে ফেরি ও এলাকার বাজারে বিক্রি হত।
চাহিদা বেশি থাকায় এ শিল্পের সাথে জড়িতদের সাথে জীবিকার জন্য অন্য কোন পেশার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু বর্তমানে ক্রেতার অভাব আর এ শিল্পের মূল উপকরণ বাঁশের মূল্য বৃদ্ধিতে কুটি শিল্পীরা তাদের পেশা ধরে রাখতে পারছে না। সুজানেরকুটি বাঁশ শিল্পী ছলিমুদ্দিন জানান বর্তমানে তালাই-এর চাহিদা বেশি থাকায় তারা তালাই তৈরি করছে। তাদের তৈরি তালাই গুণে মানে উন্নত হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকররা এসে নিয়ে যান। সরকার এসব শিল্পীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং কারিগরি উপকরণ সরবরাহ করলে বাঁশ শিল্পীরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে।