ময়মনসিংহের কলসিন্দুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মর্মাহত হয়েছেন ঢাকায় জাতীয় মহিলা ফুটবল ক্যাম্পে থাকা স্কুলটির খেলোয়াড়রা। অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে গত মঙ্গলবার। কিন্তু মেয়েরা শুনেছেন গতকাল সকালে। নাস্তার টেবিলে যাওয়ার পর সেখানে কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন মেয়েদেরকে খবরটি দেন।
খেলোয়াড়রা কোচের মুখে কথাগুলো শুনে হতভম্ব হয়ে যান। বিশেষ করে যাদের বাড়ি ধোবাউড়ায় এবং কলসিন্দুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তারা খুবই দুঃখ পেয়েছেন। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা অগ্নিকাণ্ড ঘটাবে তা কোনোভাবেই মানতে রাজি না ফুটবলাররা। কলসিন্দুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ছেন বা পড়েছেন এমন ১১ জন খেলোয়াড় বাফুফের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে রয়েছেন। তারা খুবই হতাশ এবং ক্ষুব্ধ।
গত মঙ্গলবার ভোরে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়। সকালবেলা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুমের চাবি আনতে স্টাফরুমে গিয়ে একজন ছাত্র রুমের ভেতরে আগুনে পোড়া গন্ধ পান। দেখেন অন্যান্য আসবাবপত্রের সঙ্গে বিভিন্ন সময় খেলার মাঠে জেতা ট্রফি সনদ, পদক, ব্যক্তিগত ট্রফি, যা কিছু ছিল সবই পুড়ে ছাই প্রায়। সোনালি পদক পোড়া ছাইয়ে ঢেকে গেছে।
এই খেলোয়াড়রা গতকাল দুপুরে অনুশীলন করে মাঠ হতে বের হওয়ার সময় সংবাদ মাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সানজিদা আক্তার বলেছেন, ‘সকালে নাস্তা করার সময় শুনেছি এঘটনা। খুব খারাপ লাগছে। আমরা ওই স্কুলে পড়েছি। এই মাঠে খেলেই তো বড় হয়েছি, বড় হচ্ছি। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবে আগুন লাগিয়ে দেয়া হবে এটা মেনে নেয়া কঠিন। যে ব্যক্তি এমন জঘন্য কাজ করেছে তাকে সনাক্ত করে যেন শাস্তি দেয়া হয়।’
নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা এর বিচার দাবি করছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলো আমি উনার কাছে দোষীদের শাস্তি দিতে বলব।’