সংসদ নির্বাচনে হেফাজতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৩
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সবচেয়ে আলোচিত অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আগামী সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন আসনে জয় পরাজয়ের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত। এই হেফাজতে ইসলামের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় ভোটের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখে আসছে। তাছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, আনোয়ারাসহ জেলা ও মহানগরের কয়েকটি আসনে প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর এলাকায় কওমী মাদ্রাসাসমূহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক থাকায় বিগত সময়ে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থী তাদের সহানুভূতি ও ভোট পাওয়ার জন্য ধরনা দিতে দেখা যায়। মাদ্রাসাসমূহের অধ্যক্ষ, শিক্ষকসহ পরিচালনা পর্ষদের খোঁজ-খবর এবং দোয়া প্রার্থনায় ঘনঘন যাতায়াত করতে দেখা যায়। বিগত সময়গুলোতে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নামক সংগঠন সম্পর্কেও দেশের লোকজন জানতেন না। এমনকি চট্টগ্রামেও এ সংগঠনের ব্যাপারে সচেতন রাজনৈতিক মহল অবহিত ছিল না। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ মূলত আল্লাহ ও রসুল নিয়ে বয়ান এবং ওয়াজ মাহফিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং এর মর্যাদার ব্যাপারে বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় বিবৃতি-বক্তব্য দিয়ে আসছিল।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর প্রখ্যাত আলেমাদ্বীন ও হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শাহ শফীর সারাদেশে অনেক ভক্ত ও অনুসারি রয়েছেন। একইসাথে দেশের কওমী মাদ্রাসাসমূহের শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালক হওয়ায় দেশের কওমী মাদ্রাসাসমূহের ওপর তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। হাটহাজারী মাদ্রাসায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ছাত্ররা পড়া-শুনা করে। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ছাত্র শিক্ষা শেষে নিজ নিজ জেলাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছেন। এভাবে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে বিগত সময়ে হাজার হাজার আলেম শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাছাড়া আল্লামা শাহ আহমদ শফী ভারতের প্রখ্যাত আলেম শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী-এর উত্তরসুরী হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
গত জানুয়ারি মাসে বিশেষত ঢাকায় শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্টির পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আলোচনায় আসে। কতিপয় ব্লগার ইসলাম এবং আল্লাহ-রসুলের বিরুদ্ধে কটূক্তি করার প্রেক্ষিতে হেফাজতে ইসলাম বক্তৃতা-বিবৃতি এবং সভা-সমাবেশের মাধ্যমে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করে। বর্তমান অবস্থায় সারাদেশে প্রতিটি এলাকায় হেফাজতে ইসলাম সাংগঠনিকভাবে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। হেফাজতে ইসলাম তাদের ১৩ দফা ঘোষণার পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত হয়। হেফাজতে ইসলাম তাদেরকে অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করলেও দেখা যায়, সম্প্রতি সময়ে দেশের ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তাদের পছন্দনীয় প্রার্থীর পক্ষে সভা-সমাবেশ ও ভোট প্রার্থনা করেছেন। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা আরো সাংগঠনিকভাবে নামবে।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম-৪ (হাটহাজারী) আসনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ কয়েকবার সাক্ষাত্ করেছেন। কল্যাণ পার্টির প্রধান ও ওই আসনে মনোনয়ন প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আল্লামা আহমদ শফীর সাথে সাক্ষাত্ করেছেন।
গতকাল শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে আল্লামা আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং কুশলাদি বিনিময় করেন। এ সময় মাওলানা আহমদ শফী বলেন, যেখানেই গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নামে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে। সেখানেই ইসলামের ঘাঁটি আরো শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি মুসলমানদের ঈমান ও আকিদা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম-৪ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে উক্ত আসন থেকে মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।