চার হাজার ইউপিতে নেই চেয়ারম্যান প্যানেল

দেশের চার হাজার ৪৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে অন্তত চার হাজার পরিষদে কোন চেয়ারম্যান প্যানেল নেই। একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান বলেছেন, চেয়ারম্যানের একক কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন্ন ও রাজনৈতিক কোন্দলসহ বেশকিছু কারণ রয়েছে প্যানেল তৈরি না করার পেছনে। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখার উপসচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের অন্য কারণের সঙ্গে চেয়ারম্যানদের আইন সম্পর্কে অজ্ঞতাকেও দায়ী করছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম শহীদ খান ইত্তেফাককে বলেছেন, যদি কোন ইউপি চেয়ারম্যান প্যানেল গঠন না করে থাকেন তবে মেম্বারদের মধ্যে থেকে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে সরকার থেকে প্যানেল করে দেয়া হবে। তা না হলে সাসপেন্ড হয়ে যাওয়া চেয়ারম্যানদের পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে না। দুর্নীতি কিংবা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের আছে। দুর্নীতি আর সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কারণে ৭৬ ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই কারণে ২৮ জন ইউপি সদস্যকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। এসব চেয়ারম্যান-মেম্বার পারস্পরিক যোগ-সাজশে বিশ্বব্যাংকের টাকায় পরিচালিত লোকাল গভর্নমেন্ট সাপোর্ট প্রকল্পের (এলজিএসপি) টাকা মেরে খেয়েছেন বলে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যানদের সাসপেন্ড করার পর প্যানেল চেয়ারম্যান না থাকায় এসব পরিষদের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সরকার এখন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান প্যানেল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেক ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার হাইকোর্টে রীট করে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করিয়েছেন। এখন অবশ্য সরকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করছে। আপিলে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতও হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান প্যানেল না থাকায় জটিলতা দেখা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আরও ৫৫ জন ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রত্রিয়াধীন রয়েছে। শিগগির এদেরকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হবে বলে জানা গেছে। ২০১১ সালের মে থেকে আগষ্ট মাসের বিভিন্ন সময়ে এসব পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণ করলেও গত প্রায় দুই বছরেও চেয়ারম্যান প্যানেল গঠিত হয়নি। এর কারণ হিসাবে সংশ্লিষ্ট একাধিক চেয়ারম্যান বলছেন, ক্ষেত্রবিশেষ বিএনপিপন্থি চেয়ারম্যানরা আওয়ামী লীগপন্থি মেম্বারদের নিয়ে প্যানেল গঠন করতে চাননি। আবার উল্টোক্ষেত্রে আওয়ামী লীগপন্থি চেয়ারম্যানরা বিএনপিপন্থি মেম্বারদের নিয়ে প্যানেল করতে চাননি-এই রাজনৈতিক সংকীর্ণতায় স্থানীয় সরকার ( ইউনিয়ন পরিষদ) আইনটি লঙ্ঘিত হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান তার একক কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ রাখতে চেয়ারম্যান প্যানেল গঠন করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। স্থানীয় সরকার ( ইউনিয়ন পরিষদ ) আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী শপথের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাচিত মেম্বারদের মধ্যে ভোটাভুটির মাধ্যমে তিন জনের ( একজন নারীসহ) চেয়ারম্যান প্যানেল গঠনের বিধান রয়েছে। এরকম বাস্তবতায় গত ৪ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চেয়ারম্যান প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত ৪ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সকল জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল, জেলার কোথায় কোথায় প্যানেল চেয়ারম্যান গঠিত হয়েছে আর কোথায় হয়নি। যেখানে হয়েছে সেখানকার প্যানেল পাঠানোর জন্য বলা হয়। যেসব ইউপিতে প্যানেল হয়নি-তারও তালিকা চাওয়া হয়। এ চিঠিতে বলা হয়, চেয়ারম্যান প্যানেল তৈরি না হওয়ায় চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে বা চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তাই সরকার আইনের ৩৩(৫) ধারার ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যান প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭টি জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, খুলনা জেলার সকল ইউপিতে চেয়ার্যমান প্যানেল অনুমোদন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ ছাড়া ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুর, বগুড়া, নেত্রকোনা ও ঝালকাঠী থেকে পাঠানো চেয়ারম্যান প্যানেল অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাকি জেলা থেকে এখনো তথ্য আসছে। যদিও ২১ জুলাইয়ের মধ্যে সকল জেলার তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছিল। স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছে অনানুষ্ঠানিক যে খবর রয়েছে তাতে কমপক্ষে চার হাজার ইউপিতে চেয়ারম্যান প্যানেল গঠিত হয়নি। যেগুলোতে সরকার এখন তা গঠন করবে।