কূটনীতিকদের সঙ্গে ইসির বৈঠক মঙ্গলবার

বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রভাবশালী চৌদ্দ রাষ্ট্রের কূটনীতিক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগামী ২৭ আগস্ট (মঙ্গলবার) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত বৃহস্পতিবার বৈঠকের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের আগে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ইসি সচিবালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ ভারত, পাকিস্তান ও চীনসহ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। নির্বাচনের বড় সহযোগী বিভিন্ন দাতা সংস্থার পরামর্শ চাওয়ার জন্য এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, এ ধরনের বৈঠক মাঝে মাঝে হয়, নতুন কিছু নয়। এটা রুটিন ওয়ার্ক বলতে পারেন। এদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার চিন্তা-ভাবনা করছে কমিশন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, কমিশনের অন্যতম স্টেকহোল্ডার রাজনৈতিক দল। তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। প্রয়োজন বোধ করলে তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার ইত্তেফাককে বলেন, সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোন বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে কমিশনের আনুষ্ঠানিক আলোচনার নিয়ম নেই। তবে কিছু বিদেশি সংস্থা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকে এবং পরামর্শ দিয়ে থাকে, এদের সঙ্গে ইসির একত্রে বসার পরিকল্পনা আছে। আমন্ত্রণ জানানো বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত ও সংস্থাগুলো হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, রিপাবলিক অব কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, জাতিসংঘ/ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি কূটনীতিক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের এতো আগে একত্রে বসা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিগত নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা ইসির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছে। তবে তা ছিল আলাদা আলাদা। গত জুলাইয়ের শেষদিকে কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কূটনীতিকদের অবস্থান, নির্বাচনী পদ্ধতি ও কমিশনের প্রতি তাদের মনোভাব, বর্তমান কমিশনের অধীনে কতগুলো নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচনী আইন-সংস্কার এবং আসন্ন নির্বাচনে কমিশনের প্রস্তুতি—এসব বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে।