প্রসঙ্গ বয়ান
অবৈধ ডাউনলোড বিতর্ক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫৬
এই পারেসিটা সৃষ্টি হলো কীভাবে! তারাই এই পাইরেসির জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশে। বোম্বের গান, কলকাতার গান, পাকিস্তানি গান, ইংরেজি গান নিজেদের মতো করে ক্যাসেটে করে বিক্রি করেছে। শোরুম ভর্তি শুধু বিদেশি গানের ক্যাসেটই ছিল। দেশীয় গানের ক্যাসেট শুধুমাত্র দেখানোর জন্যই ছিল অনেকটা। সেই ৯৭ সালের দিকে যারা তাদের শোরুম দেখেছে তারা এটা স্পষ্ট বলতে পারবে। এরাই দোষ সবসময়ই দিয়েছে অন্যের কাঁধে। আজ যখন তাদের গান পাইরেসি করছে অন্য আরেকজন, তখন বলছে ‘পাইরেসি পাইরেসি’। এখন তো সেই পাইরেসিকে তারা স্বীকৃতি দিয়েছে। সমস্ত অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানই হচ্ছে পাইরেসির গোডাউন। যারা আজকের অডিও শিল্পের নেতা, তারাই পাইরেসি শুরু করেছে। এবার হাতে নাতে প্রমাণসহ ধরা পড়েছে। আর এর বিরুদ্ধে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন সরকারের। প্রডিউসারদের মাধ্যমে গান প্রকাশ এখন নেই বললেই চলে। নিরুপায় হয়ে শিল্পীরা নিজেরাই গান প্রযোজনা করছে। সেটাও আবার পাইরেসি করছে এই প্রডিউসাররা। পাইরেসির অনলাইনগুলোও তাদের নিয়ন্ত্রণেই চলে। বামবা ছাড়া কোনো অডিও সংস্থা ঠিকমতো চলছে না। এর বিচার ও সংশোধনের বিষয়ে আমরা ভাবছি, সরকারেরও ভাবা খুব প্রয়োজন। অবৈধভাবে শিল্পীদের কপিরাইট কেড়ে করে নিয়েছে। এর জন্য তো আমরা সাউন্ডটেকের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করেছি। যাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে, তাদের জন্য এই কাজ তো নতুন কিছু নয়। জি-সিরিজ, ডেডলাইন মিউজিক, ঈগল ছাড়া বাকি সবক’টি কোম্পানি পাইরেসির মূল হোতা। এদের কার্যক্রম অনেকটাই প্রকাশ্য।
জেমস, নগরবাউল ব্যান্ড
পাইরেসি হচ্ছে এটা তো কনফার্ম। দোকানদাররা ১টা সিডি ডাউনলোড করে শত শত সিডির বিক্রি করছে। কিন্তু এর পয়সা তো প্রযোজনা সংস্থার কাছে আসছে না। আর এই সময়ে সিডি কিনে প্লেয়ারে নিয়ে বাজানোর লোকও খুব কম। সবাই মেমোরি কার্ডের উপরই নির্ভরশীল। যখন প্রযোজকরা সিডি বিক্রি করতে পারছেই না, তখন ওই মেমেরি কার্ডে গান লোডের উপর যদি টাকা আয় করতে পারে তাতে আমি দোষের কিছু দেখি না। আর শিল্পীর সঙ্গে এককালীন চুক্তি হলে তো এই বিষয়ে ওই শিল্পীর কোনো আপত্তি থাকতেই পারে না। রয়্যালিটিতে যদি থাকে, তাহলে বিষয়টা ভিন্ন। প্রযুক্তির এই সময়ে এসে সিডি কিনে শোনার মানুষ একেবারেই নেই। গান যদি অনলাইনে কেনা যায় এবং এটাকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় তাহলে আরও ভালো হয়।
কুমার বিশ্বজিত্, সংগীতশিল্পী
আমি মনে করি, গোড়াতেই গলদ আছে। প্রকাশকদের ধারাবাহিক অপকর্ম এবং শিল্পী ঠকানো কর্মকাণ্ড রয়েছে। এর পাশাপাশি আমরা যারা শিল্পী, তাদেরও একটা প্ল্যাটফর্মে আসা উচিত। আমি জানি না নেতৃস্থানীয়রা ঠিক কোন নীতিতে বা কোন আদর্শে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নের কথা ভাবেন! সবাই নিজেদের কথা ভাবতে ভাবতেই তো জীবন শেষ করে দিচ্ছেন। তাই সাম্প্রতিক এই ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্ট বিতর্ককে আমি বলি, অনেকদিনের বহুমুখী অপকর্মের ছোট্ট একটি আভাস।
মাকসুদ, ব্যান্ড তারকা
এই বিষয়টা নিয়ে তারা কীভাবে কী করেছে ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি এখনও। পাইরেসির কথা যদি বলি, তাদের দ্বারাই এ দেশে প্রথম এটা শুরু হয়। মাঝে একবার তারা ব্যান্ড সংগীত প্রযোজনায় নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিল। অডিও ইন্ডাস্ট্রির মহারাজ তো তারাই! এই বিষয়ে আর কী বলব! দেশে শিল্পীরা কখনোই সম্মান ও সম্মাননা পায়নি, আদৌ পাবে কি না সন্দেহ আছে। তবে পাইরেসিকে সহযোগিতা করতে গিয়ে যেহেতু অনেকটা হাতে-নাতে ধরা পড়েছে, সেক্ষেত্রে সরকার এ সমস্যার যথাযথ একটা সমাধান করবেন এটাই আশা করছি। তবে খুব একটা আশা করেও কিছু হয় না, বহু বছর ধরেই তো অডিও শিল্পের এই নাজেহাল অবস্থা। সরকার চাইলে এটা মুহূর্তের মধ্যেই ঠিক করতে পারে। কই করল না তো!
হাসান, ব্যান্ড তারকা