আজ ফুলবাড়ি ট্র্যাজেডি দিবস
দিনাজপুর স্টাফ রিপোর্টার ও ফুলবাড়ি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ২১:০৫
আজ সোমবার ফুলবাড়ি ট্রাজেডি দিবস। ফুলবাড়িতে কয়লা খনি বিরোধী সমাবেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিবর্ষণের সপ্তম বর্ষপূর্তি। ২০০৬ সালের এদিনে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি না করার দাবিতে বহুজাতিক কোম্পানী এশিয়া এনার্জির ফুলবাড়ি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে বিডিআর-পুলিশের গুলিতে কলেজ ছাত্র তরিকুল, আমিন ও সালেকিনের মর্মান্তিক মৃত্যুসহ দু’শতাধিক নারী-পুরুষ, ছাত্র-যুবক আহত হয়। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয় শতাধিক মানুষ। গুলিবিদ্ধ সুজাপুরের বাবলু রায়, সাহাবাজপুরের প্রদীপ সরকারের মতো অনেকেই এখনও পঙ্গুত্বের অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। ২৬ থেকে ৩০ আগস্ট উত্তাল ছিল জনতার আন্দোলন সংগ্রামে ফুলবাড়িসহ খনি এলাকা। এরই মধ্যে ২৮ আগস্ট এশিয়া এনার্জির সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত কয়েকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর চালািয় পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
অবশেষে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ আগস্ট পার্বতীপুর উপজেলা অডিটরিয়ামে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ছয়দফা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তত্কালীন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মিজানুর রহমান মিনু এবং জাতীয় কমিটির পক্ষে জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহম্মদ। সে থেকে ২৬ আগস্টকে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ‘‘জাতীয় সম্পদ রক্ষা দিবস’’ এবং স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠন ‘‘ফুলবাড়ি শোকদিবস’’ হিসেবে ঘোষণা করে পৃথক পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে পালন করে আসছে।
কেমন আছেন গুলিবিদ্ধ বাবলু রায়
সেদিন ফুলবাড়ি খনি বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বিডিআর-পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন উপজেলার সুজাপুর গ্রামের বাবলু রায়। বাবলু রায় এখন পঙ্গু জীবন যাপন করছেন।। তাঁর শরীরের অর্ধেক অংশ অবশ হয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে কর্মক্ষমতা। স্ত্রীসহ ৩ শিশু সন্তানের ভবিষ্যত্ নিয়ে না ভাবলেও ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি নিয়ে তার ভাবনার শেষ নেই। হুইল চেয়ারে বসেই তিনি বলেন, আমার জীবন থাকতে ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি বাস্তবায়ন হতে দেব না। প্রয়োজনে আবারো রক্ত দেব।