দারিদ্র্য ও বেকারত্ব হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ

আগামী দিনের উন্নয়নে দারিদ্র্য এবং বেকারত্ব হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় বৈদেশিক সহায়তার কার্যকর ব্যবহার নিয়ে ঢাকায় আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আসছে দিনগুলোর জন্য আমাদের তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে, এগুলো হলো দারিদ্র্য মানুষের সংখ্যা হ্রাস, দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান। এর পাশাপাশি কর্মদক্ষতা বাড়ানো, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হবে। গতকাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) উদ্যোগে রাজধানীর একটি হোটেলে তিনদিনব্যাপী কার্যকর উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশিদারিত্ব বিষয়ক এশীয় কর্মশালা শুরু হয়েছে। ইআরডি সচিব আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী নীল ওয়াকার। এশিয়া ওয়ার্কশপ অন গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর ইফেক্টিভ ডেভেলপমেন্ট কোপারেশন শীর্ষক এ কর্মশালায় ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, নেপাল, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, ফিজি, পাপুয়া নিউ গিনির প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উন্নয়নের সাথে সাথে এ অঞ্চলে অসমতাও বিদ্যমান রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) অনেকগুলো লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে। শিক্ষা ও লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে বাংলাদেশের অর্জনগুলো উল্লেখযোগ্য। উন্নয়নে বৈদেশিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী নীল ওয়াকার বলেছেন, আমাদেরকে অবশ্যই এ সহায়তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ইআরডি সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, সামপ্রতিক সময়ে বিশ্ব জুড়ে বৈদেশিক সাহায্যের কার্যকারিতা বৃদ্ধির উপর ব্যাপক গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে যার মধ্যে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত বুসান সম্মেলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় বিভিন্ন পক্ষ্যের সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর ইফেক্টিভ ডেভেলপমেন্ট কোপারেশন’ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এরপর বৈশ্বিক সহযোগিতা ফোরাম নামে একটি ফোরাম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ এ ফোরামের স্টিয়ারিং কমিটিতে এশীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী সক্রিয় সদস্য। তারই ধারাবাহিকতা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডাকে সামনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ গতকাল রবিবার থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে একই কর্মশালার আয়োজন করেছে।