আশরাফুজ্জামান ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মী ছিলেন

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ১৭তম সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা মো. ফিরোজ খান। সাক্ষ্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পরে আশরাফুজ্জামান খান গোপালগঞ্জের মুকসেদপুর ছোট ভাটরা গ্রামে যান এবং সেখানে পালিয়ে থাকেন। তখন আমরা জানতে পারি যে, তিনি ঢাকায় স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। ফিরোজ খান বলেন, ডিসেম্বরের শেষদিকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতার কথা জানতে পেরে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা তাকে ধরার চেষ্টা করি, কিন্তু তাকে আমরা পাইনি। পরে আমার চাচাতো ভাই লুত্ফুর রহমানের কাছ থেকে জানতে পারি সে ভারত-পাকিস্তান হয়ে আমেরিকায় পালিয়ে গেছে, আর কখনো দেশে ফেরেনি। বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি শাহীনূর ইসলামের দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল রবিবার এই জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দিতে ফিরোজ খান বলেন, ১৯৭১ সালের জুলাইয়ে আমি মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে যাই এবং নভেম্বরে দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আসামি আশরাফুজ্জামান খান আমাদের গ্রামের পার্শ্ববর্তী ছোট ভাটরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আজহার খানের ছেলে। পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় আমি তাকে চিনতাম। সাক্ষী বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আশরাফুজ্জামান খান আমাদের এলাকায় পিডিপি প্রার্থী আব্দুস ছালাম খানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ঐ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এবং ইসলামী ছাত্রসংঘের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান। প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে গত ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন হয়।