ক্রিকেটার বাছাইয়েও ‘সেরা’ শেখ জামাল
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:১২
সেই ঢাক ঢোল বাজল না, মিছিল হল না, হৈ চৈও ছিল না। বদলে এক অভিজাত হোটেলে ভাবগম্ভীর পরিবেশে গতকাল হয়ে গেল বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের ‘খেলোয়াড় বাছাই’ প্রক্রিয়া। যার মধ্যদিয়ে প্রিমিয়ারের ১২টি দল তাদের এ মৌসুমের দল বেছে নিল।
আগের দিনই সিসিডিএমের এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, নিয়মকানুন অনেক কিছুই পরিষ্কার না। কাল এই ‘খেলোয়াড় বাছাই’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর বোঝা গেল, লেখা নিয়মে মোটেও চলছে না প্রক্রিয়াটা। অনেকটা তাত্ক্ষনিকভাবে তৈরি করা নিয়মে লটারির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের বেছে নিল দলগুলো। লটারির ভেতরও অবশ্য প্রতিটা দলের সামনেই সামর্থ অনুযায়ী তারকা বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল।
আর সেই সামর্থের সেরা প্রমাণ দিয়ে কাগজে-কলমে অন্তত সেরা দল গড়ে ফেললো শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। গত কয়েক বছর ধরেই ঢাকার ফুটবল ও ক্রিকেটে পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভুত হওয়া শেখ জামাল এক ঝাক জাতীয় দলের অভিজ্ঞ তারকা দলে ভিড়িয়ে নিঃসন্দেহে এ মৌসুমের সবচেয়ে শক্তিশালী দল গড়তে পারল।
বিপরীতে ঢাকার ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী দুই দল আবাহনী ও মোহামেডান অনেকটাই মাঝারি মানের খেলোয়াড় দিয়ে দল সাজিয়েছে। তবে দু দলই আশাবাদী যে, ঐতিহ্যের জোর ও বিদেশী খেলোয়াড়দের দাপটে তারা চ্যাম্পিয়নশিপের দিকেই ছুটবে।
শেখ জামাল একেবারে প্রথম ‘কল’ থেকেই বাজিমাত শুরু করল। লটারিতে তারা ছিল প্রথম ‘কলার’ দল। আর সেই সুযোগ নিয়ে নিজেদের গত মৌসুমের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে দলে ভিড়িয়ে ফেললো শেখ জামাল। এরপর একে একে রাজ্জাক, অমি, ইলিয়াস সানি, জুনায়েদ, সফিউল, তুষার ইমরানের মতো তারকাকে নিয়ে রীতিমতো ‘চ্যাম্পিয়ন’ দলই করে ফেললো তারা।
সম্ভাবনা ও তারকার বিবেচনায় শেখ জামালের পরই তিনটি দল প্রায় একইরকম শক্তিশালী হল—গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং, কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ও গাজী ট্যাংক। সাকিব-তামিমকে না পেলেও নাসির, বিজয়দের নিয়ে ভিক্টোরিয়ার দল হল বেশ শক্তিশালী। মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল কায়েস, রকিবুলদের গাজী ট্যাংকও নিজেদের চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে রাখার মতো দল করলো।
তবে সাকিব আল হাসান, নাঈম ইসলাম, নাদিফ চৌধুরী, সৈয়দ রাসেল, শাহাদাতদের নিয়ে সম্ভবত এবারের লিগে চমক দলে পরিণত হতে যাচ্ছে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। এমনকি প্রিমিয়ার উন্নীত কলাবাগানের ক্রিকেট অ্যাকাডেমি দলটাও মার্শাল আইয়ুবদের নিয়ে বেশ লড়াকু একটা দল করেছে।
কিন্তু আবাহনী সে অর্থে তারকা সাজাতে পারেনি। তাদের এ মৌসুমে ভরসা শাহরিয়ার নাফীস ও নাজিমউদ্দিনসহ এক ঝাক তরুন খেলোয়াড়। অবশ্য আবাহনীর কর্মকর্তা ইসমাইল হায়দার মল্লিক আশাবাদী এই দল নিয়েও, ‘দল মোটেও খারাপ হয়নি। তরুন ও কার্যকর ক্রিকেটার আছে দলে। আমরা পুরো লিগ জুড়েই এদের সার্ভিস পাবো। আবাহনী সবসময় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল করে, এবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়াই আমাদের লক্ষ।’
একইরকম আশবাদী মোহামেডানের ডিরেক্টর ইন চার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া। যদিও মাশরাফি বিন মুর্তজা, রাজিন সালেহ ও সামসুর রহমান শুভ ছাড়া দলে সেরকম তারকা নেই। তারপরও লোকমান বলছেন, ‘আমরা মূলত বিদেশী খেলোয়াড়ে ফোকাস করবো। কয়েক জন খুব ভালো তারকা নিব আমরা দলে। সমর্থকদের আমরা আশ্বস্থ করছি যে, মোহামেডান সবসময়ের মতো চ্যাম্পিয়ন হতেই মাঠে নামবে।’
এ তো গেল বড় দলগুলোর হিসেব। এর পাশাপাশি ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও প্রাইম দোলেশ্বরও অন্তত সুপার লিগ লড়াই করার মতো দল করেছে বলে দাবি করতে পারে। ব্রাদার্স নিঃসন্দেহে তামিম ইকবালকে কিনে বড় দাও মেরেছে। সঙ্গে অলক কাপালি, নাফিস ইকবাল, সোহরাওয়ার্দী শুভকে নিয়ে দলটা তাদের গর্ব করার মতোই হয়েছে। এদিকে তরুণ মোমিনুল ও সোহাগ গাজী এবং ফরহাদ রেজাদের নিয়ে দোলেশ্বরের দলটাও নিতান্ত মন্দ নয়।
তবে দল করার ক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে থেকেই লিগ শুরু করবে সিসিএস ও খেলাঘর। সিসিএসের এবারের একমাত্র উল্লেখযোগ্য তারকা আসিফ আহমেদ রাতুল। আর খেলাঘরে ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স ছাড়া তেমন বলার মতো কেউ নেই।
দলবদল
ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং: নাসির হোসেন, এনামুল হক বিজয়, রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ শরীফ।
গাজী ট্যাংক: মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল কায়েস, রকিবুল হাসান, রুবেল হোসেন, আফতাব আহমেদ।
প্রাইম ব্যাংক: জিয়াউর রহমান, এনামুল হক জুনিয়র, তাপস বৈশ্য, ডলার মাহমুদ।
শেখ জামাল: মুশফিকুর রহিম, আব্দুর রাজ্জাক, জহুরুল ইসলাম, ইলিয়াস সানি, জুনায়েদ সিদ্দিকী, সফিউল ইসলাম, তুষার ইমরান।
আবাহনী: শাহরিয়ার নাফীস, নাজিমউদ্দিন, শাহাজাদা, নাবিল সামাদ।
মোহামেডান: সামসুর রহমান শুভ, সাকলাইন সজীব, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুরাদ খান, রাজিন সালেহ।
প্রাইম দোলেশ্বর: মোমিনুল হক, ফরহাদ রেজা, সোহাগ গাজী।
সিসিএস: আসিফ আহমেদ রাতুল।
কলাবাগান ক্রীড়াচক্র: সাকিব আল হাসান, নাঈম ইসলাম, নাদিফ চৌধুরী, সৈয়দ রাসেল, শাহাদাত হোসেন।
ব্রাদার্স ইউনিয়ন: তামিম ইকবাল, সোহরাওয়ার্দী শুভ, অলক কাপালি, নাফিস ইকবাল।
খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি: ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স।
কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমী: মার্শাল আইয়ুব, সগীর হোসেন পাভেল, তালহা যুবায়ের।