এই হাড় সেই হাড় নয়

রাজধানীর মাতুয়াইলের সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার করা মানুষের কংকালের পরীক্ষা করেছে ৪ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড। গতকাল রবিবার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে বোর্ড নিশ্চিত হয়েছে, এই হাড় সেই হাড় নয়। অর্থাত্ উদ্ধারকৃত হাড়গুলো খুনি কর্তৃক হত্যা করে ফেলে দেয়া কিংবা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হাড় নয়। এগুলো মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের এনাটমি বিষয়ে পড়াশুনার কাজে ব্যবহূত হাড়। বিশেষ করে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে এ হাড় ব্যবহার করা হয়েছে এমন আশংকা করেছেন কোন কোন বোর্ড সদস্য। কোন কোন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে মৃতদেহ এনাটমি বিভাগে ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেলে ঐ মৃতদেহের হাড় ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়। নিয়মানুযায়ী সম্মানের সঙ্গে মাটিতে পুঁতে অথবা কবরস্থানে নিয়ে মাটির নীচে হাড়গুলো রেখে দিতে হয়। বোর্ড সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত উক্ত হাড়গুলোর প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখানো হয়নি। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার কাজে ব্যবহারের অনুপযোগী মৃতদেহের হাড়গুলো মেডিক্যাল কলেজের সামনে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়। এনাটমি বিভাগে মৃতদেহ যে কেমিক্যাল দিয়ে সংরক্ষণ করা হয় বোর্ডের পরীক্ষায় তা প্রমাণিত হয়েছে। যেভাবে হাড়গুলো কেটে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দেয়া হয় বোর্ড তারও প্রমাণ পেয়েছে। আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধারকৃত কংকালগুলোর নারী-পুরুষ নির্ধারণের জন্য ডিএনএ এবং রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পুলিশ সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেছে। এ কারণে বোর্ড হাড়গুলোর ডিএনএ ও রাসায়নিক পরীক্ষা করার জন্য মতামত দিয়েছেন। বোর্ড সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত কংকালের মধ্যে একটি পুরুষাঙ্গ ছিল। তা দেখে বুঝা যায় একটি পুরুষ। অপরটি পুরুষ নাকি মহিলার তা শনাক্ত করা যায়নি। তবে ডিএনএ পরীক্ষায় তা শনাক্ত করা সম্ভব। কংকালের মধ্যে দুটি মাথার খুলি রয়েছে। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে অন্যতম অত্যাধুনিক গ্রীন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মাইনুল আহসান বলেন, এনাটমি বিষয়ে পড়াশুনার জন্য একটি মৃতদেহ কমপক্ষে ২ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। এরপর আর ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। তখন মৃতদেহের হাড়গুলো কবরস্থানে সম্মানের সাথে পুঁতে রাখা হয়। এ মেডিক্যাল কলেজ থেকে মৃতদেহের হাড় এভাবে পুঁতে রাখা হয়। ডাস্টবিন কিংবা যত্রতত্র ফেলে দেয়া ঠিক নয়। লাশের প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছে বলে তিনি জানান। বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এনাটমি বিভাগে ছাত্রছাত্রীদের জন্য মৃতদেহ শিক্ষা কিংবা গবেষণার জন্য বিশেষভাবে কেমিক্যাল দিয়ে সতেজ রাখা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পর মাম্মিফায়েড ডেডবডি ছাত্রছাত্রীদের কোন কাজে লাগে না। তখন এনাটমি বিভাগের বর্জ্য হিসাবে ফেলে দেয়া হয়। উদ্ধারকৃত কংকালগুলো কোন মেডিক্যাল কলেজ এনাটমি বিভাগের উচ্ছিষ্ট বর্জ্য বলে জানানো হয়। গত শুক্রবার মাতুয়াইলের সিটি কর্পোরেশনে আবর্জনার স্তূপ থেকে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ ১৩ টুকরা কংকাল উদ্ধার করে। এ কংকাল উদ্ধার নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নানা মহল এ কংকাল নিয়ে নানা মন্তব্য করছে। যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে।