সাতক্ষীরায় আগাম হাওয়া প্রত্যাশীরা তত্পর
জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫১
সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্নস্থানে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট ও রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় কর্মব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন। রাজনৈতিক সামাজিক ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে যোগদানসহ এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কুশলবিনিময় ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রমজান মাসে বিভিন্ন স্থানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় রং-বেরংয়ের ফেস্টুন-ব্যানার-পোস্টার টানিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এভাবে মানুষের কাছে নিজেদের আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগাম বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এলাকায় তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাড়িয়ে দিয়েছে। এলাকার বাইরে অবস্থানরত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঘন ঘন এলাকায় এসে লোকজনের সুবিধা অসুবিধার কথা শুনছেন। অনেকে সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করছেন আবার অনেকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনকে ঘিরে এসব দৌড়-ঝাঁপের সাথে সাথে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে লবিং করে চলেছেন। ‘নির্বাচন নিয়ে সংশয়’ থাকলেও কোন প্রার্থী ঘরে বসে নেই। প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় সরব। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৪টি আসনের সবকটিতে জয়লাভ করেছিল। এরমধ্যে ছিল আওয়ামী লীগের ২ জন এবং জাতীয় পার্টির (এ) ২ জন। তাই এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চাইছে তাদের আসনগুলো ধরে রাখতে আর বিএনপি জোট চাইছে তাদের হারানো আসনগুলো ফিরে পেতে।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া)ঃ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মুজিব, তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র এবং কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন। মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখ্ত, ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে জেলা সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি এডভোকেট মোস্তফা লুত্ফুল্লাহ মনোনয়ন প্রত্যাশী। অপরদিকে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। জামায়াত ইসলামী থেকে দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহর মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে নাম শোনা যাচ্ছে।
বিএনপি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব একক প্রার্থী হলেও সাতক্ষীরা-১ আসন হতে জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ মনোনয়ন লাভের চেষ্টা চালাচ্ছেন। হাবিব দীর্ঘদিন বিএনপির হাল ধরে রেখে এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এবারই প্রথম জামায়াতের মনোনয়ন দাবি করছেন। মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখ্ত এবং ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে দলের জেলা সম্পাদক মোস্তফা লুত্ফুল্লাহ প্রত্যাশী।
সাতক্ষীরা-২ (সদর)ঃ সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে কোন্দল তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে এ আসনে বর্তমান এমপি শিল্পপতি জাতীয় পার্টির আলহাজ্ব এমএ জব্বার ১৪ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি গত সাড়ে চার বছরে এলাকায় যথেষ্ট উন্নয়ন করলেও মহাজোট সরকারের অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মীর মোশতাক আহমেদ রবি এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামী লীগের জোট হলে তিনি এ আসনে নির্বাচন করবেন না। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাদ্দেস আব্দুল খালেক প্রার্থী হিসাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জামায়াত-বিএনপি জোট হয়ে নির্বাচন করলে জোট যাকে মনোনয়ন দিবে তিনিই প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন বলে উভয় প্রার্থী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বর্তমানে দুজনেই নিজ নিজ দলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-দেবহাটা ও কালীগঞ্জের আংশিক)ঃ সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-দেবহাটা ও কালীগঞ্জের আংশিক) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে বড় দুটি দলের প্রার্থীদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ কোন্দল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে বর্তমান এমপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম ও আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোখলেসুর রহমান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক বর্তমান সরকারের আমলে জেলায় মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনসহ ব্যাপক উন্নয়ন করায় সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে দূরত্বের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখনও গ্রহণযোগ্য অবস্থানে যেতে না পারলেও আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এবিএম মোস্তাকিম এলাকায় থেকে সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করায় তার যথেষ্ট সুনাম ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড্যাবের সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. শহিদুল আলম বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। ডা. শহিদুল আলমের এলাকার মানুষের সাথে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ডা. শহিদুল আলমের জনপ্রিয়তা বেশি। এ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে সুরা সদস্য মোহাদ্দেস রবিউল বাশার মনোনয়ন প্রত্যাশী। জাতীয় পার্টির এসএম সালাহউদ্দিন ও বিএনপির আশাশুনি উপজেলা সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও এডভোকেট বরুণ ব্যানার্জী মনোনয়ন প্রত্যাশী।
সাতক্ষীরা-৪ (কালীগঞ্জের একাংশ ও শ্যামনগর)ঃ সাতক্ষীরা-৪ (কালীগঞ্জের একাংশ ও শ্যামনগর) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে বড় দুটি দলের প্রার্থীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে এ আসনে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনসুর আহমেদ, সাবেক এমপি এসএম ফজলুল হক, শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম জগলুল হায়দার দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির এএইচএম গোলাম রেজা জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় তিনি এখনো কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তবে এ আসনে ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার মোড়ল পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সমর্থন নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেছেন। রাজনীতিতে সম্পূর্ণ নতুন মুখ হয়েও তিনি ব্যাপকভাবে কাজ করছেন। বিএনপির সাতক্ষীরা জেলা সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী ও কাজী আলাউদ্দিন এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। দুজনেই এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কেন্দ্রে লবিংয়ের পাশাপাশি এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের জন্য কাজ করলেও জামায়াতের সাথে জোটের কারণে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলামও এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে গণসংযোগ করছেন।