কমলগঞ্জে রাবার চাষে হুমকির মুখে চা শিল্প
নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৮
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার চা বাগানে রাবার চাষাবাদ বিস্তৃত হওয়ায় চা শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। চা বাগানের জন্য লিজ নেয়া এসব টিলা ভূমিতে দ্রুত লাভের আশায় বাগান কর্তৃপক্ষ শুরু করেছে রাবার চাষাবাদ। এর ফলে চা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও চায়ের উত্পাদন হ্রাসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া রাবার চাষে প্রাণবৈচিত্র্য বিনষ্ট হয়ে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
জানা যায়, কমলগঞ্জের চা বাগানসমূহ সাম্প্রতিককালে চা চাষের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আলীনগর চা বাগানে ২৫০ হেক্টর, শমশেরনগর চা বাগানে ১০০ হেক্টর ও এন.টি.সি. চা বাগানসহ অন্যান্য স্থানে আরও প্রায় ১৫০ হেক্টর মিলিয়ে কমলগঞ্জের প্রায় ৫০০ হেক্টর ভূমিতে বর্তমানে রাবার চাষাবাদ চলছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিজয় প্রসাদ বুনার্জি ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী ইত্তেফাককে বলেন, চা বাগানে রাবার চাষাবাদ করলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেবে এবং চা উত্পাদনও হ্রাস পাবে। তাছাড়া রাবার চাষাবাদ পরিবেশের জন্যও ক্ষতির কারণ রয়েছে। রাবার বাগানে শ্রমিক নিয়োগ কম হয়। বর্তমানে নতুন করে রাবার চাষাবাদ সরকার বন্ধ করে দিয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
চা শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য সীতারাম বিন বলেন, আমরা চা বাগানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। রাবার বাগান করায় শ্রমিকরা রোগাক্রান্ত এবং বেকার হচ্ছে। চা বাগান থেকে রাবার চাষাবাদ বন্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ, কবি শহীদ সাগ্নিক, সমাজ সেবক ডা. আব্দুল হান্নান চিনুসহ পরিবেশবিদদের মতে, চা বাগানের শেড-ট্রিগুলো পরিবেশ রক্ষা, পাখির আবাসস্থল তৈরীতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু রাবার চাষাবাদে এ ধরনের কোন সুবিধা নেই। যেখানে রাবার চাষাবাদ হয়েছে সেখানে ঘাসও উঠছে না। এসব গাছে পাখি বসে না। এর ফলে প্রাণবৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চা বাগানের একজন কর্মকর্তা বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অবৈধ রাবার বাগান করে চা শিল্পকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে। চা শ্রমিকরাও রোগাক্রান্ত হচ্ছে। অথচ পরিবেশ দূষণ না ঘটিয়ে কিভাবে জমিতে রাবার গাছ লাগানো উচিত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমলগঞ্জের চা বাগান ব্যবস্থাপকরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডানকান ব্রাদার্সের একজন ব্যবস্থাপক দাবি করেন, পরিত্যক্ত টিলাভূমিতে রাবার চাষাবাদ হচ্ছে এবং এতে চায়ের কোন ক্ষতি হচ্ছে না।
চা বাগানে রাবার চাষাবাদ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, চা বাগান সমম্বয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নতুন করে চা বাগানে রাবার চাষাবাদ বন্ধ করা হয়েছে।