জয়পুরহাটে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে সব স্লুইট গেট অকেজো

জয়পুরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে তুলশীগঙ্গা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উভয় তীরের প্রায় সবকয়টি স্লুইস গেট অকেজো হয়ে পড়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন আগেই চুরি হয়ে গেছে গেটগুলোর শেড, পিনিয়ামসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এসব স্লুইস গেট দিয়ে পানি প্রবেশ করে তলিয়ে যায় নদী পাড়ের হাজার হাজার একর জমির ফসল। পানিবন্দী হয়ে পড়েন নদী এলাকার মানুষ। অন্যদিকে একই কারণে খরা মৌসুমে এলাকার কৃষকরা পান না সেচ সুবিধা। জানা গেছে, ১৯৯৮-৯৯ এর দিকে ক্ষেতলালের বটতলী হতে আক্কেলপুর উপজেলা পর্যন্ত তুলশীগঙ্গা নদীর উভয় তীরে ৩১ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নির্মাণ করা হয় ১৫টি স্লুইস গেট। এই গেটগুলো অনেক আগেই অকেজো হয়ে পড়লেও কেউ খোঁজ-খবর রাখেনি। ক্ষেতলাল উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পার্শ্ববর্তী ইকরগাড়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন, আনিছুল ইসলাম, তালশন গ্রামের আব্দুল করিম, পশ্চিম তিলাবুদুল গ্রামের আব্দুস সালামসহ অনেক এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এই তুলশীগঙ্গা নদীর উভয় পাড়ে দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আওতায় প্রায় ১০/১১ হাজার বিঘা আবাদী জমি রয়েছে। কিন্তু প্রায় ৮-১০ বছর আগে স্লুইস গেটগুলোর যন্ত্রাংশ চুরি হলেও অদ্যাবধি সেগুলো আর সংযোজন করা হয়নি। ফলে এ গেটগুলো এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকের জন্য। বর্ষা মওসুমে ফসল তলিয়ে যায়। খরার সময় পাওয়া যায় না সেচ সুবিধা। আক্কেলপুর উপজেলার কলেজ বাজার এলাকার বাঁধের বাসিন্দা শহর আলী, তুলশীগঙ্গা ব্রীজ এলাকার তোজাম উদ্দিন ও আক্কেলপুর পৌর কাউন্সিলর আলমসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, স্লুইস গেটগুলো আসলে সরকারের কোন্ বিভাগের তা তাদের জানা নেই। কারণ স্লুইস গেটগুলোর সবকিছু দিনে দিনে চুরি হলেও সরকারের কোন কর্মকর্তাই তা দেখতে আসেন না। তবে জয়পুরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ এম সেলিম ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী হায়দার আলী জানান, তারা নিয়মিত বাঁধ ও স্লুইস গেটগুলো পরিদর্শন করেন। এগুলো সংস্কারের জন্য প্রায় ৩৩ লাখ টাকার প্রয়োজন। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে গেটগুলো সংস্কার করা হবে।