২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির অন্তর্গত কিছু প্রতিশ্রুতি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করেছে ইরান। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একটি নির্দেশ অনুসারে এটা করা হয়েছে বলে বুধবার বার্তা সংস্থা ইসনাকে জানান দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার একজন কর্মকর্তা।
ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে প্রত্যাহারের এক বছর পর গত সপ্তাহে চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যকে চুক্তির অন্তর্গত কিছু প্রতিশ্রুতি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানায় তেহরান। পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী, ইরানকে ৩০০ কেজির একটি সীমারেখা পর্যন্ত কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উত্পাদনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ভারী পানির মজুত রাখতে পারত সর্বোচ্চ ১৩০ টন। নির্ধারিত সীমার বেশি উত্পাদন করলে তা দেশের বাইরে জমা রাখা বা বিক্রি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসায় এখন থেকে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও ভারি পানি উত্পাদনে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির আনবিক শক্তি সংস্থার ওই কর্মকর্তা।
পরমাণু চুক্তিতে থাকা অন্য দেশগুলোকে ৬০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে ইরান। ফ্রান্স, ?যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জার্মানি ও চীন যদি এ সময়ের মধ্যে ইরানের অর্থনীতিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে রক্ষা না করে, তাহলে আল্টিমেটাম শেষ হলে সর্বোচ্চ মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধের কাজ শুরু করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের আল্টিমেটামকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা এখনো পরমাণু চুক্তিটি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে গেলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের নতুন করে উত্তেজনা তৈরি ও সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে।