বদলির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আর সরাসরি আবেদন নয়
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০১
স্বাস্থ্য প্রশাসনে চিকিত্সকদের বদলি বাণিজ্য চরম সীমায় পৌঁছেছে। ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলায় বদলি করলে চিকিত্সকদের সিংহভাগ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। কেউ কর্মস্থলে যোগদান করে ঢাকায় বদলি বাগিয়ে নেয়ার জন্য তদ্বিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দিনের পর দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের কতিপয় নেতার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট চিকিত্সকদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই দুর্নীতির টাকার ভাগ নিয়মিত পান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কতিপয় কর্মকর্তা, এমন অভিযোগও পাওয়া যায়। এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনেও সিন্ডিকেটের প্রভাব পড়ায় কর্মস্থলে চিকিত্সকদের অনুপস্থিতি বেড়ে যায় এবং কোন কোন কর্তৃপক্ষ অসহায় হয়ে পড়েন। রোগীদের চিকিত্সা সেবার বৃহত্তর স্বার্থে কর্মস্থলে ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন প্রায় ব্যর্থই বলা চলে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিত্সকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য কয়েক দফা নির্দেশনা দিলেও ঐ সিন্ডিকেট নেতা সেই নির্দেশনা তোয়াক্কা করেন না।
গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. রুহুল হকের সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে কোন চিকিত্সক বদলির জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে আসতে হবে। এরপর ঐ চিকিত্সকের বদলির বিষয়ে কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। বৈঠকে এসব বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার সিফায়েত উল্লাহ ছাড়াও সকল পরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক ও স্থানীয় হাসপাতাল পরিচালকগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিন কর্মকর্তা বলেন, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য ঠেকাতে এ কৌশল আগেও নেয়া হয়েছিল। তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি শুধু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে। ঢাকার বাইরে ডাক্তারদের অনুপস্থিতির কারণে রোগীরা ছোট খাটো চিকিত্সার জন্যও ঢাকায় এসে ভিড় জমান। পাশাপাশি অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হন। বিভিন্ন উপজেলায় ডাক্তার নিয়োগেরও কোন সামঞ্জস্যতা নেই। কোন উপজেলায় ২৮ জন কিংবা ১০ থেকে ১২ জন চিকিত্সক রয়েছেন আবার কোন কোন উপজেলায় আছেন মাত্র ২ থেকে ৩ জন চিকিত্সক। কোন হাসপাতালে মাসে একবার গিয়ে চিকিত্সক হাজিরা দিয়ে আসেন। বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জন জেলা ও উপজেলায় চিকিত্সকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। গতকাল বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলে কর্মস্থলে উপস্থিতি বেড়ে যাবে এবং রোগীদের হয়রানি কমে যাবে বলে উক্ত কর্মকর্তারা জানান।
মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের দুই কর্মকর্তা বলেন, অধিদফতর ও বিভাগীয় হাসপাতালসহ ৪৬ জন পরিচালকের মধ্যে মাত্র ২ জন পরিচালক নির্ভেজাল। অর্থাত্ তারা কোন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নয় এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া সিভিল সার্জনদের মধ্যে ২/১ জন ব্যতীত বাকি সবাই কোন না কোন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। উপজেলা থেকে কোন চিকিত্সক ঢাকা কিংবা শহর এলাকায় বদলি হয়ে আসতে হলে স্ব স্ব কর্মস্থলের প্রধানের সুপারিশ, সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালকের সুপারিশের মাধ্যমে আবেদন অধিদফতরে পৌঁছাতে হবে বলে উক্ত কর্মকর্তারা জানান।