বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৬
মুদ্রানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহত্ শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষি ও হালকা প্রকৌশল শিল্পে বেশি বেশি ঋণ দিতে বলা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে তফসিলী ব্যাংকগুলোর বৈঠকে ব্যাংকারদের এ পরামর্শ দেন কেন্দ ীয় ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক নীতি-কৌশল বরাবরই স্থিতিশীল। আচমকা কোনো পরিবর্তন ঘটে না। ফলে দেশে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। তাই যথাযথ নিয়মনীতি পালনসাপেক্ষে ব্যাংকগুলোর উচিত দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের উত্সাহিত করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় তফসিলী ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সরবরাহ দিকের কোনো সমস্যা নেই। সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসের কারণে ঋণ প্রবৃদ্ধিতে মন্থরগতি দেখা দিয়েছে। এরপরও এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় আমাদের ঋণ বেশ ভাল অবস্থানে রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে আলোচিত বেসিক ব্যাংকের বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে গভর্নর বলেন, বেসিক ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ভালো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেসিক ব্যাংকের কিছু অনিয়ম উদ্ঘাটিত হওয়ায় তাদের সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করানো হয়েছে। এমওইউ’র অধীনে বেসিক ব্যাংককে তদারকি করায় অচিরেই ব্যাংকটির অবস্থা আগের মতো হবে।
গভর্নর বলেন, আমানতের সুদ হারে নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করলেও ঋণের সুদ হার হ্রাস না পাওয়ায় স্প্রেড কিছুটা বেড়েছে। অথচ আমানতের সুদ হার হ্রাস পেলে ঋণের সুদ হারও হ্রাস পাওয়া যৌক্তিক। কোনো কোনো ব্যাংকে গ্রাহকের কাছ থেকে অযথা বেশি চার্জ নেয়া হয়। ডলার কেনা-বেচার সময়ও ব্যাংকগুলো বেশি মুনাফার জন্যে তত্পর থাকে। এর ফলে গ্রাহক অসন্তুষ্টি বাড়ে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস. কে. সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, নো ইউর কাস্টমার (কেওয়াইসি) প্রতিবেদন ঠিকমত না করার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের এসব কেলেংকারি হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রত্যেকটি ব্যাংকের প্রত্যেক গ্রাহকের কেওয়াইসি আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখার। যদি কোন ব্যাংকে দেখা যায় যে, গ্রাহকের কেওয়াইসি নেই, তাহলে ওই ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমীন বলেন, নির্বাচনী বছর হওয়ার কারণে আগামী ছয় মাসে রাষ্ট্র পরিচালনায় তিন ধরনের সরকার ব্যবস্থা আসতে পারে। এ অবস্থায় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ নেয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।